হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জামায়াত জোট

রকীবুল হক

বর্তমান জাতীয় সংসদ ও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্কের অন্যতম প্রধান ইস্যু জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত এই সনদ এবং পরে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হওয়ায় তার বাস্তবায়ন চায় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় ঐক্য তথা সংসদের বিরোধী দল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বক্তব্য-বিবৃতি ও দাবি জানানোর পরও এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে আন্দোলনে নেমেছে ১১দলীয় ঐক্য। এরই মধ্যে দুই দফায় বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে এখন তৃতীয় পর্বের আন্দোলনে রয়েছে তারা। ধাপে ধাপে কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করার টার্গেটে এগোচ্ছে জামায়াত জোট। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংসদে ও রাজপথের অবস্থান জোরদার করা হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এছাড়া শরিক দলগুলোও আলাদাভাবে বিক্ষোভ-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে ‘গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে’ আজ শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশ করবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এতে দলীয় নেতা ছাড়াও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেবেন। গণভোটের রায় পূর্ণ বাস্তবায়নে এ সমাবেশ ছাড়াও দেশব্যাপী গণআন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক।

এদিকে, আগামীকাল শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশ’ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এ সমাবেশ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার ঢাকার বাইরে সব মহানগরে গণমিছিল করবে ১১ দলীয় ঐক্য।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে আন্দোলন প্রসঙ্গে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ আমার দেশকে বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হবে। এ দাবি বাস্তবায়নের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।

সূত্রমতে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে এবং প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন সংসদ সদস্যরা। একই দিন মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হয়। ৭৭ আসন নিয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এদিকে, শপথের দিন থেকেই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি দলের অনীহা প্রকাশ পায়। সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি থাকলেও সরকারি দলের সদস্যরা শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। অন্যদিকে দুটি শপথই নেন বিরোধী দলের সদস্যরা। এ নিয়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করেন জামায়াত জোটের এমপিরা।

ইস্যুটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সেখানেও বিষয়টি গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় তাকে ‘জুলাই গাদ্দার’ আখ্যা দিয়ে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল। দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে ১৫ মার্চ বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তুলে ধরে সরকারের অবস্থান জানতে চান। নিয়মানুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একই আদেশে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। তাই মানতে হলে দুটিকেই মানতে হবে। একই বিষয়ে কথা বলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

এ নিয়ে বেশ উত্তেজনার এক পর্যায়ে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। তবে সেটা আইন-কানুন, বিধি-বিধান ও সংবিধানের মধ্যে দিয়ে। একই বিষয়ে পরে আইনমন্ত্রীও বক্তব্য দেন। বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলের মাঝে বেশ ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারকে আলটিমেটাম ও হুঁশিয়ারির এক পর্যায়ে গত ৪ এপ্রিল রাজধানীতে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে আন্দোলনে নামে ১১ দলীয় ঐক্য। পরে ৭ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় দফায় সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ, লিফলেট বিতরণ, সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে তারা। তবে এতেও সরকারের কোনো সাড়া না পেয়ে ১৬ এপ্রিল জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠকে বসেন ১১ দলের শীর্ষ নেতারা। সেখান থেকে ২ মে পর্যন্ত নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

কর্মসূচি অনুযায়ী গত ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে গণমিছিল ও সমাবেশ করে ১১ দলীয় জোট। আগামীকাল ঢাকার বাইরে সব মহানগরে এবং আগামী ২ মে সব জেলা শহরে গণমিছিল হবে। এছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত সারা দেশে লিফলেট বিতরণ এবং সব মহানগর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে সেমিনার আয়োজন করা হবে। সব বিভাগে জনসভা ও ঢাকায় মহাসমাবেশ করারও প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

এর মধ্যে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে বলে জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এনসিপিও। ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচির পাশাপাশি দলটির নেতারা এ বিষয়ে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রামের সংসদ সদস্য ড. আতিক মোজাহিদ বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি আদায়ে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের রাজনীতির পরিবেশ ফেরাতে এটা লাগবেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কিছুটা নমনীয়তার আভাস দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গত ১২ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলনে গণভোটকে বৈধ বলে স্বীকার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

গণভোট নিয়ে কেন সংসদে অনুমোদন হয়নি এবং এটি নিয়ে বিরোধী দলের ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এটা তো ফ্যাক্টাম ভ্যালেট, এটা ঘটনাক্রমে সিদ্ধ। গণভোট অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেটার বৈধতা আছে। সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে যখন বিগত গভর্নমেন্টের (অন্তর্বর্তী সরকার) সব কর্মকাণ্ডকে, দুয়েকটি বাদে বৈধতা দেওয়া হবে, তখন সেটা লেজিটিমেট (বৈধ) হয়ে যাবে।

বিরোধী দলের আন্দোলনের হুমকি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

এদিকে, গত ২০ এপ্রিল বগুড়ায় এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ।

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আন্দোলন প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আমার দেশকে বলেন, এটা বাস্তবায়নে আমাদের যা যা করা দরকার, করা হবে। আন্দোলন যতদূর যাওয়া দরকার, নিয়ে যাওয়া হবে। দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করা হবে এবং এ দাবি বাস্তবায়ন হবে ইনশাল্লাহ।

সংসদীয় আসনে অপ্রতুল বরাদ্দ, এমপিদের চাপে পড়তে পারে সরকার

বিদ্যুতের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী, বাড়ানো যাচ্ছে না উৎপাদন

প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতে ‘রেশমা উদ্ধার নাটক’

উদ্বেগজনকভাবে কমে যাচ্ছে পণ্য রপ্তানি

সাগরে ডুবছে শত শত যুবকের রঙিন ইউরোপের স্বপ্ন

আওয়ামী আমলের চুক্তিতে শত শত কোটি টাকা গচ্চার শঙ্কা

ডিজেল-সারের সংকট, চড়া মূল্যে দিশাহারা কৃষক

পার পেয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ খাতের লুটেরা সিন্ডিকেট

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিলে হতাশা, ক্ষোভ

স্বচ্ছ পানির ফয়’স লেক এখন বিষাক্ত জলাধার