দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের সম্ভাবনা নিয়ে সেমিনার
ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত অপ্রশস্ত সড়কের কারণেই আটকে আছে বরিশালসহ সমুদ্র দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়ন। দ্রুত সময়ের মধ্যে জনগুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করা প্রয়োজন।
বুধবার বরিশাল নগরীর একটি অভিজাত রেস্তরায় আয়োজিত এক সেমিনারে আলোচকরা এমন কথা বলেছেন। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) আয়োজিত বাংলাদেশে শিল্প জরিপ বিষয়ক এ বিভাগীয় কর্মশালায় দক্ষিণাঞ্চলের শিল্প সম্ভাবনা, বিনিয়োগের সুযোগ, অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ এবং অঞ্চলভিত্তিক শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, বরিশালে যে পরিমাণ বিনিয়োগ হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। বরিশালে তেমন কোন কল কারখানা নেই। দু/একটা থাকলেও বিপুল অংকের টাকা পাচারের কারণে তা বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের ভালো দেশপ্রেমিক বিনিয়োগকারীর প্রয়োজন, যারা বিনিয়োগ করে দেশের অর্থ সম্পদ বিদেশে পাচার করবে এমন বিনিয়োগকারীর প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, আমরা আমাদের সম্পদ সঠিক ভাবে ব্যাবহার করতে পারছি না। পটুয়াখালীতে ৪শ ১৩ একর কৃষি জমি অধিগ্রহণ করা হলেও তা ব্যাবহার হচ্ছে না। এছাড়া পায়রা বন্দরের জন্য ৫ হাজার ৯ একর জমি একোয়ার করে ফেলে রেখেছি। এসব জমির সঠিক ব্যাবহার করতে পারছি না।
তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের প্রতিটি জেলার নিজস্ব পণ্য, কৃষি সম্পদ ও পর্যটন সম্ভাবনাকে শিল্পে রূপান্তর করতে পারলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বরিশাল অঞ্চল ইলিশের জন্য বিখ্যাত। ইলিশ রক্ষায় সরকারী উদ্যোগের পাশাপাশি মিঠা পানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রক্ষা ও বংশ বৃদ্ধির বিষয়ে কাজ করা প্রয়োজন।
এছাড়া মুক্ত আলোচনায় উঠে আসে বরিশালের নারকেল, সুপারি, আমড়া ও পেয়ারা, মাছ প্রক্রিয়াজাত করে বৃহৎ শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা। এসময় বক্তারা বলেন, বর্তমানে এসব পণ্যের বড় অংশ কাঁচা অবস্থায় বাজারে বিক্রি হয়। আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠলে জুস, জ্যাম, আচার, শুকনো ফল ও রপ্তানিযোগ্য বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা সম্ভব। এতে কৃষক ও ন্যায্যমূল্য পাবেন, পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানও বাড়বে। আলোচনায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তাদের মতে, কুয়াকাটা শুধু একটি সমুদ্র সৈকত নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন অর্থনীতির অন্যতম সম্ভাবনাময় কেন্দ্র। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনোদনকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট সেবাখাত সম্প্রসারণ করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে এসব সম্ভাবনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উঠে আসে ভাঙা-কুয়াকাটা মহাসড়কের অপ্রশস্ত অবস্থা। এই বিষয়ে আলোচকরা বলেন, কাঁচামাল পরিবহন, শিল্পপণ্য সরবরাহ এবং পর্যটকদের যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লাগায় উদ্যোক্তারা বড় বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তাদের মতে, ভাঙা-কুয়াকাটা সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়ন ও পর্যটন খাতে নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার, বিডার মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন,সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ড. চন্দনসহ বিভিন্ন খাতের স্টেকহোল্ডার, উদ্যোক্তা ও গণমাধ্যমকর্মী।