হোম > সারা দেশ > বরিশাল

বানারীপাড়ায় সন্ধ্যা নদীর চর বিক্রি করছে প্রভাবশালী চক্র

নিকুঞ্জ বালা পলাশ, বরিশাল

বরিশালের বানারীপাড়া ফেরিঘাট-সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে জেগে ওঠা চরের জমি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রটি বিক্রির পাশাপাশি চরের এক জায়গায় নিজেদের লোক দিয়ে একাধিক দোকানঘর নির্মাণ করেছে। প্রকাশ্যে চর দখল করে বিক্রি আর দোকানঘর নির্মাণ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই চক্রের নেতৃত্বে আছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দীন মৃধা। সঙ্গে আছেন তার বড় ভাই মাসুম মৃধা, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম রিপন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান, পৌর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মো. শাহে আলম বেপারী, বানারীপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মোল্লা, জন মোল্লা, দিপু মাঝিসহ অনেকে। তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএমএ মুনীব দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এক সপ্তাহ আগে বানারীপাড়া ফেরিঘাট-সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যা নদীতে জেগে ওঠা চর বিএনপির সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দেয় চক্রটি। প্রতিজনের কাছ থেকে এক থেকে দুই লাখ করে টাকা নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দীন মৃধা ওই জমিতে নিজের জন্য পাঁচটি ঘর তুলেছেন। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে কলেজ জীবন শেষে মো. রিয়াজ উদ্দীন মৃধা একটি এনজিওতে মাঠকর্মী হিসেবে যোগ দেন। সেখানে চাকরি করার সময় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খাটেন।

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেন রিয়াজ উদ্দীন মৃধা। টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়া, হাট-বাজার, বালুমহল, খাস জমি দখল, টেন্ডারবাজি এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে তার প্রভাব ছিল না। তিনি এসবই করতেন সহযোগীদের নিয়ে। বিএনপির একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে চরের জমি বিক্রি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা। পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল আলম রিপন আমার দেশকে বলেন, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ফেরিঘাট এলাকার চর দখল করেছে। তিনি কোনো চরের জমির পজিশন বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত নন। বরং তিনি দখলদারদের বাধা দিয়েছেন।

পৌর বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মো. শাহে আলম বলেন, ‘চর দখলে আমার চৌদ্দগোষ্ঠীও যায়নি। আমি কোনো টাউটারি-বদমাশি করি না। এসব যারা করে তাদের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করুন। তবে কারা এসবের সঙ্গে জড়িত জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সবুর খান আমার দেশকে বলেন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা কোনো দখলবাজির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

অভিযোগ সম্পর্কে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দীন আহম্মেদ মৃধা আমার দেশকে বলেন, চরের জমি দখল কিংবা বিক্রির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি কোনো চাঁদাবাজি করছেন না। আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয় দেওয়া ও চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। তাদের পরিবার সব সময়ই বিত্তশালী ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোয়েজিদুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি লাইন কেটে দেন। তবে বানারীপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিএমএ মুনীব চর দখলের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে তিনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। চর দখল করে ঘর নির্মাণে একাধিকবার বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

মঠবাড়িয়ায় বজ্রাঘাতে কৃষকের মৃত্যু

ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

বরিশালে বজ্রপাতে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

পিরোজপুর জেলা পরিষদের পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ উদ্বোধন

নেছারাবাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অটোচালকের মৃত্যু

বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে খতিব নিহত

বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

দুমকিতে বজ্রপাতে নিহত ১

আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, ছিনিয়ে নেওয়া হয় আটক আসামি

যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন তজুমদ্দিনের শামীম