পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার সবজি ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস (৪৫) মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে উপজেলা ইসলামী আন্দোলন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা কার্যালয় থেকে উপজেলা আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা প্রশাসন মাঠে গিয়ে প্রতিবাদ সভার মাধ্যমে শেষ হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মৌলভী মাহবুবুল আলম, সদস্য সচিব মাওলানা মনিরুল ইসলামসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এসময় নিহত ইদ্রিসকে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী দাবি করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিহত ইদ্রিস ঈদের সময় ছেলে-মেয়ে ও পরিবার নিয়ে বাড়িতে আসার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফিরেছেন লাশ হয়ে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভালো ও সৎ মানুষ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত না হওয়ায় সমাজে গুম, খুন ও সহিংসতা বেড়েছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষ জনপ্রতিনিধিদের হাতেই নিরাপদ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে ইদ্রিসের মৃত্যুর ঘটনায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে ইদ্রিস খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাখিমারা বাজার থেকে তাকে স্থানীয় যুবদল কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে তার দিকে পানির জগ ছুড়ে মারা হয় এবং পরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। পরে সোমবার রাত ১০টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে নিহতের স্বজনরা মরদেহ কলাপাড়া থানায় নিয়ে আসেন। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে। পরে নিজ গ্রাম দক্ষিণ দৌলতপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজন আবুবকর খান বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় জহিরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে আরও ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় জনগণ ও নিহতের স্বজনরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।