ঝালকাঠিতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর পরিত্যক্ত বাড়িতে আবারও হামলা চালিয়েছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার দুপুরে ঝালকাঠি শহরের রোনালসে রোডে অবস্থিত আমুর বাড়ির প্রধান ফটক ড্রিল মেশিন দিয়ে কেটে ভেঙে ফেলে একদল শিক্ষার্থী। এর পাশাপাশি সম্প্রতি প্রধান ফটকে দেওয়া টিনের বেড়াও অপসারণ করে ফেলে তারা।
এলাকাবাসী জানায়, আমির হোসেন আমুর পরিত্যক্ত বাসভবনের প্রধান ফটকে দুদিন আগে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা টিনের বেড়া দেয়। রাতের আঁধারে ওই বেড়া দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়। আমুর বাড়ি সংস্কার করা হচ্ছে এমন খবরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীরা।
এক পর্যায়ে দুপুরে জুলাই ছাত্র আন্দোলনকারীদের একদল শিক্ষার্থী সেই টিনের বেড়া অপসারণ করে ড্রিল মেশিন দিয়ে প্রধান ফটক কেটে ফেলে। এতে আমুর পরিত্যক্ত বাড়িটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলে থাকা ঝালকাঠির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. লিখন বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ফ্যাসিবাদের দোসরদের আস্তানা উন্মুক্ত রাখতে টিনের বেড়া অপসারণ করেছে। এটি ফ্যাসিবাদের চিহ্ন হিসেবে জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রয়োজনে এটি বাসাবাড়ির ময়লার ভাগাড় করা হবে। কেউ ইচ্ছে করলে এখানে টয়লেটও নির্মাণ করতে পারেন।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিক্ষুব্ধ জনতা ১৪ দলের মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর রোনালসে রোডের ওই বাড়িতে হামলা চালায়। সেদিন কয়েক হাজার মানুষ বাড়িটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে তিনতলা বাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
সেদিন রাত ১২টার দিকে স্থানীয়রা ওই ভবনের তৃতীয় তলায় আবার আগুন দেখতে পান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা সেখানে এসে আগুন নেভানোর সময় পানি নিক্ষেপ করলে কয়েকটি পোড়া লাগেজ থেকে টাকার বান্ডেল বেরিয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে ওই টাকার লাগেজগুলো জব্দ করেন।
এর মধ্যে তারা গণনা করে একটি লাগেজে অক্ষত এক কোটি টাকা এবং অপর লাগেজগুলো থেকে গণনা করে আংশিক পোড়া দুই কোটি ৭৭ লাখ টাকা উদ্ধার করেন। এ ছাড়া ডলার, ইউরোসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যমানের মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। সে থেকেই বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।