ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা সদরে কোন হাসপাতাল না থাকায় উপজেলা সদরসহ পাঁচ ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত।
উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের জন্য একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যা উপজেলা সদর থেকে ১০কিলোমিটার দূরে আমুয়া ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে হলতা নদীর পাড়ে অবস্থিত।
আওরাবুনিয়া ও চেঁচরী রামপুর ইউনিয়ন থেকে এ হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। ফলে একটি মাত্র ইউনিয়ন ছাড়া বাকি পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ এ হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা সদরে শুধুমাত্র বহির্বিভাগের চিকিৎসার একটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে একজন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য। একজন মাত্র উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক পদ দুটিও রয়েছে শূন্য। দরিদ্র এলাকা হওয়ায় এখানে ব্যক্তি মালিকানায় কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক গড়ে ওঠেনি। সদরে দিলিপ চন্দ্র হাওলাদার নামের একজন এমবিবিএস ডাক্তার প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। তিনি অনেক সময় ব্যক্তিগত কাজে উপজেলার বাহিরে গেলে উপজেলা সদর ডাক্তার শূন্য থাকে।
উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামের মানসুরা বেগম জানান, হাসপাতাল দুরে থাকায় যেদিন ডাক্তার দেখাইতে যাই, সেদিন আর রান্না বা কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। ডাক্তার দেখাইয়া বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে যায়
উপজেলা সুজন সম্পাদক ফারুক হোসেন খান বলেন, উপজেলা সীমানায় জালের মত অসংখ্য খাল থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ দুর্গম। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উপজেলার এক কোনায় হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সাধারণ মানুষ সেবা পেতে কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল।
উপজেলা পিস ফ্যাসিলেটর গ্রুপ পিএফজির নারী নেত্রী ইসরাত জাহান রুমা বলেন,স্বাস্থ্য কমপ্লে দূরবর্তী স্থানে হওয়ায় এলাকার গর্ভবতী মা, জখমি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.জহিরুল ইসলাম বলেন,উপজেলা সদরে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ বসবাস করেন। তারা প্রতিনিয়ত আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। সদরে ভাল চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবার নিয়ে বসবাস করতে সাহস পান না। তিনি আরো বলেন,কাঠালিয়া উপজেলার মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়া তাদের মৌলিক অধিকার। তাদের এ সেবা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। উপজেলা সদরের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এক একর ১৫ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত। এখানে এখনও এক একর জমি খালি রয়েছে। এ জমিতে ২০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা সম্ভব।
এমএস