পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মারা, নারীদের হেনস্তা এবং জামায়াত সমর্থিত কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার বেলা ১১টায় বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাউফল সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিপুলসংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন ১১ দলীয় ঐক্যজোট মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডা. জাকিয়া ফারহানা। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসন, মানবাধিকার সংগঠন এবং নারী অধিকার নিয়ে যারা কথা বলেন—তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মারার মতো বর্বর ঘটনার নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। এই ঘটনায় যারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন, তাদের প্রতি ধিক্কার জানাই।
তিনি আরো বলেন, আমরা একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই, যাতে নারীরা নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। ভয় দেখিয়ে, হামলা চালিয়ে আমাদের দমন করা যাবে না। নারীরা জুলাই বিপ্লবে ভূমিকা রেখেছে—হুমকি ও চোখ রাঙানি দিয়ে আমাদের ঘরে বন্দি করা যাবে না।
মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “মা-বোনদের নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র সহ্য করা হবে না। আমাদের শরীরে এক ফোঁটা রক্ত থাকতে মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।
তিনি নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা আগামী ১২ তারিখ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। আপনাদের নিরাপত্তায় আমরা পাহারাদার হিসেবে পাশে থাকবো।
জামায়াত সূত্র জানায়, রোববার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একটি নির্বাচনি মিছিল চলাকালে বিএনপির একটি অংশ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে জামায়াত ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। ঘটনায় মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতিতে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাউফল থানার ওসির পদত্যাগের দাবিতে থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে স্থানীয় থানা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।