বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বিএনপি নেতা পরিচয়ে ভেকু দিয়ে কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এক ফসলি থেকে শুরু করে তিন ফসলি মাঠে অবৈধভাবে রেজা সুমন নামের একজন নিজেকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে সাবেক জেলা জজ (অব.) রেজা তারিক আহম্মেদ, রেজা মাহামুদ, রেজা হাবিবুর রহমান ও সৈয়দ আ. সোবাহানের জমির টপ সয়েল (জমির উপরের অংশ) কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। এ ঘটনায় প্রতিকার পেতে জমির মালিকদের পক্ষে রেজা মাহমুদ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাকেরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে মাছের ঘের করার কথা বলে জমি লিজ নিয়ে সেই জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছেন। তাছাড়া ওই জমির ১৩১০ নং দাগের মাটি কেটে ট্রাক পাকা রাস্তায় ওঠার বিকল্প পথ তৈরি করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের জেএল ৫৯ নং বাগদিয়া মৌজার এসএ খতিয়ান নং ৭৮৯ হালদাগ নং-১৩১০, ১৩৩০, ১৩৩২, ১৩৩৮ ও ১৩৪২-এ সাবেক জেলা জজ (অব.) রেজা তারিক আহম্মেদ, রেজা মাহামুদ, রেজা হাবিবুর রহমান ও সৈয়দ আ. সোবাহানের ফসলি জমি থেকে পাঁচ থেকে সাত ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। আবার কিছু মাঠে ১০ থেকে ১২ ফুট গভীরতার কারণে আশপাশের কৃষিজমি ভেঙে পড়ছে। এ ঘটনায় তিনিসহ এলাকার ফসলি জমির মালিক ও কৃষকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন তৎপর হলে প্রভাবশালী মাটি ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাগদিয়া গ্রামে ভেকু দিয়ে কৃষিজমির মাটি কাটছেন রেজা সুমন। তিনি বিগত সাত-আট বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠ থেকে মাটি কিনে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছেন।
মাটিখেকো ব্যবসায়ী রেজা সুমন বিগত দিনে ভেকু দিয়ে নদীর পাড়ের ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সরকারি চরের জমি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার কারণে ভূমি আইনে একাধিক মামলায় আসামি হয়েছেন। প্রথম দিকে গভীর রাতে মাটি কাটা শুরু হতো আর এখন দিনের বেলা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাটি কাটার পর তা নিয়ে যাওয়া হয় বলাকাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইটের ভাটায়। এতে কমে যাচ্ছে উর্বর আবাদি জমি। ফলে কমছে খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা।
কলসকাঠি ইউনিয়নের বাগদিয়া গ্রামের মাঠের জমিতে এ মৌসুমে মুগ ডাল আবাদ হয়েছে। এলাকার বেশির ভাগ কৃষক ও জমির মালিকেরা কেউ নিজে, কেউবা বর্গা দিয়ে ধান রোপণের চেষ্টা করছে। এর মাঝে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করায় ফসলি জমি কমে যাচ্ছে।
বাগদিয়া এলাকার বৃদ্ধ কৃষক সৈয়দ আবদুস সোবাহান বলেন, ‘যিনি মাটি কাটছেন (রেজা সুমন), তিনি নাকি বিএনপির অনেক বড় নেতা। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোর করেই মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই ঘেরের ভেতরে আমার ২২ শতাংশ জমি থেকে জোরপূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।’ এ ঘটনায় তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে মারধরসহ হত্যার হুমকি দিয়েছেন রেজা সুমন।
কৃষক সালাম খান জানান, মাটিখেকো রেজা সুমনের ফসলি জমি থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টর গাড়িতে নেওয়ার কারণে তার মুগ ক্ষেতের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এতে তিনি কয়েক হাজার টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাছাড়া তার জমিসংলগ্ন পাশের জমি থেকে মাটি কেটে ফেলায় পানি নিষ্কাশনে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এমনভাবে চলতে পারে না। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযুক্ত রেজা সুমন জানান, তিনি ওই জমি লিজ নিয়ে মাছের ঘের করার জন্য মাটি কেটে সেই মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছেন। ধানের জমির মাটি কেটে বিক্রি করা অবৈধ কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে লাইন কেটে দেন।
ভারপ্রাপ্ত বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তন্ময় হালদার বলেন, কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অবৈধভাবে মাটি কাটায় ইতিমধ্যে কয়েকজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা করেছি। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। সে যেই হোক, আবাদি জমির মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই।
জেডএম