বরিশালের বাকেরগঞ্জে রাতের আঁধারে সরকারি খাসজমিতে বালু ভরাট করে দখলের অভিযোগ উঠেছে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোহেল ফরাজীর বিরুদ্ধে। গত রোববার উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের তোহা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তোহা বাজার এলাকায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে রোববার রাতে বালু ফেলেন বিএনপি নেতা সোহেল ফরাজী। এক রাতের মধ্যেই তিনি ওই জায়গায় বালু ফেলে ভরাট করে ফেলেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজান খান বলেন, রাতের আঁধারে সরকারি ওই জমিতে বালু ভরাট করা হয়। বাজারের ১৯-২০ জন ব্যবসায়ীকে অবৈধভাবে উচ্ছেদ করে কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের উদ্দেশ্যেই বিএনপি নেতা সোহেল ফরাজী এ কাজ করেছেন। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ওই জমিতে ১৯-২০ জন ব্যবসায়ী মুদি-মনিহারি, আইসক্রিম ফ্যাক্টরি, মুরগির দোকান, টিনের আড়ত ও মিলসহ বিভিন্ন ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সরকারি বন্দোবস্তের মাধ্যমে ১২-১৩ জন ব্যবসায়ীর নামে ওই জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে ২০২২ সালে সরকার ওই বন্দোবস্তের ডিসিআর স্থগিত করে।
জানতে চাইলে সোহেল ফরাজী জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে বাজারে চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য তোহা বাজারের জায়গায় বালু ভরাট করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ঠিকাদার কাজ শুরু করবেন। তবে সরকারি জমিতে রাতের আঁধারে কেন বালু ভরাট করলেন—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, বালু ভরাটের বিষয়টি তাদের জানা নেই। কেউ যদি সরকারি জমিতে বালু ভরাট করে থাকে, তাহলে সেটি অপরাধ। কেউ অবৈধভাবে সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।