হোম > সারা দেশ > বরিশাল

কলাপাড়ায় অর্থাভাবে বন্ধ ১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদের নির্মাণকাজ

মাইনুদ্দিন আল আতিক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘খায়গো বাড়ির মসজিদ’-এর নির্মাণকাজ অর্থাভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে খোলা আকাশের নিচেই নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় দুর্ভোগ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ বছর আগে বাবু খাঁ নামে এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেন। প্রথমে খড় ও বাঁশ দিয়ে এবং পরে সময়ের সঙ্গে কাঠ, গোলপাতা ও টিন দিয়ে নির্মিত মসজিদে দীর্ঘদিন ইবাদত চলতে থাকে।

সবশেষ ইটের দেয়াল ও টিনের ছাউনির একটি ভবনে নামাজ আদায় করতেন মুসল্লিরা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ভবনটির দেয়ালে ফাটল দেখা দেয় এবং পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে মুসল্লিরা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ায় পুরোনো ভবনটি ভেঙে নতুন একতলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় মসজিদ কমিটি। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে ঐতিহ্যবাহী মসজিদটির নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, মসজিদের সামান্য ফান্ড ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দেড় বছর আগে পুরোনো ইট দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে অর্থ সংকটের কারণে গত ছয় মাস ধরে কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ভবনের পিলার ও আংশিক দেয়ালের কাজ শেষ হলেও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ আটকে আছে।

সরেজমিন দেখা যায়, নির্মাণাধীন ভবনের খোলা স্থানে অস্থায়ীভাবে পাটি বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। প্রচণ্ড রোদ কিংবা বৃষ্টি হলেই চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, মসজিদটি শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়; এটি এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যেরও অংশ। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষ এখানে নামাজ আদায়সহ বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

কিন্তু মসজিদটির বর্তমান অবস্থা দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত ধর্মপ্রাণ, মানবিক ও বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মসজিদের মুসল্লি দেলোয়ার মোল্লা বলেন, আগে মসজিদটিতে সব সময় অনেক মুসল্লি থাকতেন। এখন ছাদ না থাকায় ঝড়-বৃষ্টি ও রোদের মধ্যে নামাজ পড়তে কষ্ট হয়। এজন্য মুসল্লির সংখ্যাও কমে গেছে।

মসজিদের ইমাম ও খতিব অলিউল্লাহ বলেন, মসজিদের আশপাশে প্রায় এক থেকে দেড়শ পরিবার বসবাস করে। এসব পরিবারের অধিকাংশ পুরুষ সদস্য নিয়মিত এখানে নামাজ আদায় করতেন। কিন্তু বর্তমানে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে খোলা স্থানে জামাতে নামাজ পড়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

মসজিদ কমিটির সহসভাপতি হামিদ মিয়া জানান, মাত্র ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আমরা নির্মাণকাজ শুরু করি। এলাকার অধিকাংশ মানুষ গরিব। তাদের সহযোগিতায় পিলার পর্যন্ত কাজ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে মসজিদের প্রায় পৌনে তিন লাখ টাকা ঋণ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মসজিদের সামান্য সম্পদ থেকে যে আয় হয়, তা দিয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন দেওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই নির্মাণকাজ শেষ করতে সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন মিয়া জানান, এখন পর্যন্ত নির্মাণকাজে সাত থেকে আট লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে ফান্ডে কোনো অর্থ নেই। বর্ষা মৌসুমের আগেই ছাদ নির্মাণ করতে না পারলে মুসল্লিদের দুর্ভোগ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ।

ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে পিরোজপুরে বিক্ষোভ

বাকেরগঞ্জে পুলিশের সামনে আসামির ওপর হামলা

বাবুগঞ্জে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

বাকেরগঞ্জে এমপিকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ায় গ্রেপ্তার ১

ভিসি ও প্রো-ভিসির দ্বন্দ্বে স্থবির পটুয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, প্রভাব খাটিয়ে বিএনপি নেতার জমি দখল

মিয়ারহাট বন্দরে অগ্নিকাণ্ডে ১৭ দোকান ভস্মীভূত, ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি

মহিপুরে নজর কাড়ছে ১৬ লাখ টাকার দুটি কোরবানির ষাঁড়

চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার হামলা, নিহত ১

বরিশালে চাঁদা না পেয়ে মাছ ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যা