পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে একটি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে, যা উপকূলীয় সামুদ্রিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে সৈকতের জিরো পয়েন্টের পশ্চিম দিকে জোয়ারের পানির সঙ্গে ডলফিনটি ভেসে আসে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী আব্দুল জলিল প্রথমে ডলফিনটি দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডলফিনটির শরীরের চামড়া উঠে গেছে, পেট ফেটে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসব লক্ষণ ডলফিনটির অস্বাভাবিক মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন। গোলাকার মাথা এবং ঠোঁটবিহীন গঠন এই প্রজাতির বৈশিষ্ট্য। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অগভীর উপকূলীয় জল ও বড় নদীগুলোতে এদের বিচরণ দেখা যায়। বিপন্ন এ প্রজাতির ডলফিন সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী আবুল হোসেন রাজু বলেন, বারবার মৃত ডলফিন ও কচ্ছপ ভেসে আসা আমাদের সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকির ইঙ্গিত। অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ এবং নৌযানের অসচেতন চলাচল এর জন্য দায়ী হতে পারে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, এ ধরনের ঘটনা স্পষ্ট অশনিসংকেত। ডলফিনের মৃত্যু উপকূলীয় পরিবেশের অবনতির বার্তা দেয়। দ্রুত কারণ উদ্ঘাটন করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ডলফিন রক্ষা কমিটি, কুয়াকাটা পৌরসভা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় মৃত ডলফিনটি উদ্ধার করে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কুয়াকাটা উপকূলে বারবার সামুদ্রিক প্রাণীর মৃতদেহ ভেসে আসা একটি বড় ধরনের পরিবেশগত সতর্কবার্তা, যা দ্রুত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জেডএম