হোম > সারা দেশ > বরিশাল

ডিজেল সংকটে পানিশূন্য বোরো ধানের ক্ষেত, বিপাকে কৃষকরা

সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় চলতি বোরো মৌসুমের ভরা সময়ে তীব্র ডিজেল সংকট দেখা দিয়েছে। সেচ পাম্প চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে হাজারও কৃষক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় অনেক ক্ষেত শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, যা ধান উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সেচের পানির অভাবে বিস্তীর্ণ জমিতে ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। জমিতে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। কৃষকদের মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট।

স্থানীয় কৃষক জাকির ফরাজি জানান, তিনি চলতি মৌসুমে এক একর জমিতে ইরি-বোরো ধান আবাদ করেছেন। শুরুতে সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমানে ডিজেলের অভাবে পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তার জমি শুকিয়ে নষ্ট হওয়ার পথে।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এখন ধানের ফলন আসার সময়। এই সময় পানি না দিতে পারলে সব শেষ হয়ে যাবে। কোথাও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কষ্টে তিন-চার দিনের জন্য ৫-৭ লিটার তেল জোগাড় করছি। এভাবে চললে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না।

একই গ্রামের আরও কয়েকজন কৃষক জানান, শুধু রাকুদিয়া নয়, আশপাশের অন্তত চার শতাধিক কৃষক একই সমস্যায় ভুগছেন। অনেকেই ধার-দেনা করে চাষ করেছেন। এখন ফসল নষ্ট হলে তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সেচ পাম্প মালিক ও স্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। তারা অভিযোগ করেন, ডিপো থেকেই পর্যাপ্ত ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে কৃষকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলার কামিনী ফিলিং স্টেশনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন ভোর থেকে কৃষকরা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও একজন কৃষককে সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার তেল দেওয়া যাচ্ছে, যা দিয়ে পুরো জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানান, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং কেউ মজুত বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (সওকা) সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে কৃষকদের তেল সংগ্রহের জন্য লিখিত অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে সংকট কাটবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরো মৌসুমে সেচ নির্ভরতার কারণে ডিজেল সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলে। তাই দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শুধু বাবুগঞ্জ নয়, পুরো বরিশাল অঞ্চলের ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করে সেচ কার্যক্রম সচল না করলে তাদের সর্বনাশ অনিবার্য হয়ে উঠবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে অনিয়ম, নলছিটির সাবেক ইউএনও’কে শাস্তি

নিহত উজ্জ্বল কর্মকারের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ড. মাসুদ এমপি

বরিশাল বিভাগে আলোচনায় চার নারী নেত্রী

জেলের জালে ধরা পড়লো বিরল ‘ব্রাউন সার্জনফিশ’

ইউনিয়ন পরিষদের গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

বিসিসি প্রশাসকের একান্ত সচিব হলেন সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা

চরমোনাই পীরের দরবারে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ

প্রতিবন্ধী এনামুলসহ চার ভাইবোনের ঠাঁই হয়নি বাবার সংসারে

কলাপাড়ায় ট্রলারভর্তি ৬২০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ

চরমোনাই মাহফিলে আসা লঞ্চে আগুন