পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার আলোচিত নমিতা রানী হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮। রোববার রাত ১০টার দিকে জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ছোটকানুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৮ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে আত্মগোপনে থাকা কামাল পঞ্চায়েতকে আটক করা হয়। তিনি জিয়ানগর উপজেলার দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত আবু পঞ্চায়েতের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তিনি বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
নিহত নমিতা রানী পালের পরিবারের সদস্যদের দাবি, পারিবারিক বিরোধ এবং কথিত পরকীয়াজনিত দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তদন্তের স্বার্থে নিহতের পুত্রবধূ বন্যা রানী পাল এবং তার এক আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জিয়ানগর থানার ওসি মোহাব্বত খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মামলার প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করা হবে।”
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এতে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মে জিয়ানগর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে নমিতা রানী পাল (৬০) নিহত হন। এ ঘটনায় তার স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল বাদী হয়ে জিয়ানগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।