দীর্ঘদিনের অবহেলা, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং জরাজীর্ণ পুল-কালভার্টের দুর্ভোগ পেছনে ফেলে আলোকিত হচ্ছে নেছারাবাদ উপজেলার এক নম্বর বলদিয়া ইউনিয়নের জনপদ। যেখানে একসময় সামান্য পথচলাও ছিল চরম দুর্ভোগের। সেখানে আজ স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটিয়েছে। স্বেচ্ছাশ্রম এবং তাদের ক্ষুদ্র অর্থায়নে মাত্র আট মাসে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে ৬৮টি পুল এবং একাধিক মাটির সড়ক।
মে দিবস উপলক্ষে ‘সবার আগে বলদিয়া’টিম মানবিকতা, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গত শুক্র ও শনিবার তারা বিন্না ও সোনারঘোপ গ্রামের সংযোগ সড়কের ওপর তিনটি নতুন পুল নির্মাণ করে। এর ফলে সোনারঘোপ, খেজুরবাড়ী, লেবুবাড়ী ও কাঠাপিটানিয়া- এ চারটি সনাতনী হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সংকট দূর হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব গ্রামের সঙ্গে বলদিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে চলাচল আরো দুর্বিষহ হয়ে পড়ত। কোথাও বাঁশের সাঁকো, কোথাও ভাঙা কাঠের পুলই ছিল ভরসা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক এবং সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়তে হত। মাত্র ১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগত ৩০ মিনিটেরও বেশি।
জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও যখন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়িত হয়নি, তখন এলাকাবাসীই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘সবার আগে বলদিয়া’নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। কৃষক, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, গ্রাম্য চিকিৎসক, ব্যবসায়ী এবং একদল উদ্যমী তরুণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শুরু হয় এ উন্নয়নের যাত্রা। প্রতি শুক্র ও শনিবার নির্ধারিত পোশাকে হাতে খন্তা, কুড়াল ও হাতুড়ি নিয়ে মাঠে-ঘাটে নেমে পড়েন তারা। বর্তমানে সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা প্রায় দুই শতাধিক।
সংগঠনের সভাপতি মাসুদ পারভেজ বলেন, আগে আমাদের এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ছিল খুবই দুর্বল। মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাত। এখন আমরা নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সেই চিত্র বদলে দিচ্ছি। মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
সংগঠনের সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তিই আমাদের এ উদ্যোগের জন্ম দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। আমরা চাই, আমাদের এ উদ্যোগ অন্য এলাকাগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক।
এএস