বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে নৌবাহিনীর হাতে আটক হওয়া ভারতীয় ৩১ জেলেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী মামলা প্রত্যাহার করায় আদালতের নির্দেশে পটুয়াখালী জেলা কারাগার থেকে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কাছে জেলেদের হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন।
তিনি বলেন, দুই দেশের বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় ভারতীয় হাই কমিশনের প্রতিনিধি এস এস মাথিরের উপস্থিতিতে পটুয়াখালী জেলা কারাগার থেকে জেলেদের মুক্তি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের কলাপাড়া থানায় পাঠানো হয়েছে। কোস্টগার্ড সেখান থেকে তাদের ট্রলারসহ ভারত-বাংলাদেশের জলসীমানায় নিয়ে ভারতের কোস্টগার্ডের তাছে হস্তান্তর করবেন।
কোস্টগার্ড দক্ষিণ জেনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট সাকির আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, গত ১৫ অক্টোবর আটককৃত ভারতীয় জেলেদেরকে দুই দেশের বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় ভারতীয় হাই কমিশনের প্রতিনিধি এস এস মাথিরের উপস্থিতিতে পটুয়াখালী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। এ সময় কোস্টগার্ডের দক্ষিণ জোনের এক্সিকিউটিভ অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন, পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরো জানান, মোংলা, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামের কারাগার থেকে আরো ৬৪ ভারতীয় জেলের মুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের আনুষ্ঠানিক ভাবে বঙ্গোপসাগরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হস্তান্তর করা হবে। একই সময় ভারতের কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দী বাংলাদেশের ৯০ জন জেলেকেও এই বন্দী বিনিময়ের আওতায় ভারত বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে বলে জানা গেছে। মুক্তির খবরে খুশি ভারতীয় জেলেদের স্বজনেরা।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশের জলসীমা থেকে ৩১ ভারতীয় জেলেসহ জয় জগন্নাথ ও মা বাসন্তী নামে দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী মাছধরার ট্রলার আটক করে নৌবাহিনীর সদস্যরা। জব্দ করা হয় ৫০ মনেরও বেশি সামুদ্রিক মাছ। ১৬ অক্টোবর আটক ৩১ জেলেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কলাপাড়া থানায় সোপর্দ করা হয়।