আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর
পটুয়াখালীর ‘সাগরকন্যা’ খ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে মোটরসাইকেলের অবাধ বিচরণ, পর্যটকদের নিরাপত্তাহীনতা ও টুরিস্ট পুলিশের নীরবতা নিয়ে দৈনিক আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
বুধবার (২৫ মার্চ) সংবাদ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কুয়াকাটা সৈকতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক। এ সময় কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।
অভিযান চলাকালে সৈকতের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের চলাচলের স্থানে মোটরসাইকেল চালানোর দায়ে কয়েকটি মোটরসাইকেল আটক করা হয় এবং চালকদের চাবি জব্দ করা হয়। তবে পর্যটন মৌসুম বিবেচনায় প্রথমবার সতর্ক করে কোনো আর্থিক জরিমানা করা হয়নি। পরবর্তীতে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে চাবি ফেরত দেওয়া হয়।
এ সময় সৈকতে শৃঙ্খলা ফেরাতে মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘জোন’ নির্ধারণ করে দেয় প্রশাসন। এখন থেকে চালকরা শুধুমাত্র নির্ধারিত এলাকাতেই মোটরসাইকেল চালাতে পারবেন। এর বাইরে বা পর্যটকদের চলাচলের স্থানে মোটরসাইকেল চালালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযান শেষে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সৈকতের শৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজ চালকদের সতর্ক করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট জোন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এরপরও কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পর্যটক ও স্থানীয় সচেতন মহল। তবে এ ধরনের নজরদারি স্থায়ীভাবে বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।