চার সন্তানের মা ছিলেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের চরগজালিয়া গ্রামের কবির মৃধার স্ত্রী হাওয়া বেগম। ছোট সন্তান হাবিবা আক্তারের জন্মের দুই ঘণ্টার মধ্যেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান তিনি। মেজো ছেলে এনামুল প্রতিবন্ধী হিসেবেই জন্ম নেন। ১৬ বছর বয়সি এনামুলের ডান হাত ও ডান পা পুরোপুরি অচল। হুইলচেয়ার ছাড়া হাঁটাচলা করতে পারে না। তবে শারীরিক অক্ষমতা দমাতে পারেনি তাকে।
এখন সে এসএসসি পরীক্ষার্থী। বড় ছেলে সাইফুল ইসলামের বয়স ২০। বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ছোট ছেলে ইয়াদুল ও ছোট মেয়ে হাবিবার বয়স যথাক্রমে ১০ বছর ও ৯ বছর। দুজনই চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে।
মায়ের মৃত্যুর দুই বছরের মাথায় বাবা কবীর মৃধা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎমায়ের সংসারে ঠাঁই হয়নি প্রতিবন্ধী এনামুল ইসলামসহ চার ভাইবোনের। বাধ্য হয়েই আশ্রয় নিতে হয়েছে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জালিসা গ্রামে বৃদ্ধ নানা-নানির সংসারে। ৯ বছর ধরে নাতি-নাতনিদের নিয়ে কোনোমতে সংসার চালালেও বয়সের ভারে নিজেরাই এখন অচল। তাই নানা শহিদুল ইসলাম তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত।
প্রতিবন্ধী নাতির চিকিৎসা করাতে এসে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন শহিদুল ইসলাম। বলেন, তার বাড়ি দুমকীর জালিসা গ্রামে। কোনো ছেলেসন্তান নেই তার। আছে চার মেয়ে। হাওয়া বেগমকে ২২ বছর আগে কবীর মৃধার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন। ছোট নাতনির জন্ম দিতে গিয়ে হাওয়া বেগমের মৃত্যু হয়। কবীর মৃধা দ্বিতীয় বিয়ে করলে সৎমায়ের সংসারে ঠাঁই মেলেনি চার নাতি-নাতনির। তাই তাদের নিজের কাছে নিয়ে আসেন। ৯ বছর ধরে তার কাছে তারা। বড় নাতি ইংরেজিতে অনার্সে পড়েন। অন্য তিনজনও পড়াশোনা করছে। মেজো নাতি প্রতিবন্ধী। তার স্ত্রী অসুস্থ। চলাফেরা করতে পারছেন না। কবীর মৃধা সন্তানদের খোঁজখবর নিচ্ছেন না। তাই সরকারের সংশ্লিষ্টদের এনামুলের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন এনামুলের নানা শহিদুল ইসলাম।
প্রতিবন্ধী এনামুলকে কেউ সাহায্য করতে চাইলে ০১৭৯৭-৮৪১৬৭৮ বিকাশ নম্বরে সহায়তা করার অনুরোধ করেছেন তার নানা শহিদুল ইসলাম।