কুমিল্লায় জালিয়াতি করে চাকরি নেওয়ার পর বরখাস্ত আওয়ামী লীগ নেতা সম্প্রতি কর্মস্থলে ফিরে প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর করেন। পরে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও মারধরে সহায়তাকারী তার চাচাতো ভাই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা। এ ঘটনায় সিদলাই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানাকে দল থেকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিস দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার রাতে ১১ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম। একই দিন রাতে সোহেল রানাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক এবং সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলু।
কারণ দর্শানোর নোটিসে উল্লেখ করা হয়, আপনার (সোহেল রানা) বিরুদ্ধে সংগঠনের নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে কেন আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তার কারণ বর্ণনা করে আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব সশরীরে উপস্থিত হয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক এবং সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলুর কাছে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা ইসলামকে মারধর ও লাথি মারার ঘটনা ঘটে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজন এ হামলা ও মারধর করেন। এ সময় তার চাচাতো ভাই সোহেল রানা অর্ধশতাধিক দলীয় কর্মী নিয়ে মারধরে অংশ নেন।
মামলার অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত সোহেল রানা প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা ইসলামকে তার অফিস থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে মারধর করে হত্যার চেষ্টা করেন।
জানা যায়, আওয়ামী শাসনামলে আমিনুল ইসলাম সুজন রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে জাল সনদে প্রধান শিক্ষক হয়েছিলেন। এরপর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতার প্রভাবে পাঁচ বছরের ছুটি নেন। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর উভয় কর্মস্থল থেকে বেতন নেন। ভুয়া রেজল্যুশন এবং ডিজির স্বাক্ষর জাল করায় ২০১৯ সালে চাকরি থেকে বরখাস্ত হন।
সম্প্রতি সুজন দাবি করেন, আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি আবার কর্মস্থলে ফেরেন। এরপর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। গত রোববার সকালে অর্ধশতাধিক লোক নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার ওপর হামলা করেন আমিনুল ইসলাম সুজন এবং সোহেল রানা।
মামলার বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সেলিম আহমেদ বলেন, প্রধান শিক্ষিকার ওপর হামলার ঘটনায় যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।