বৈশ্বিক করোনা মহামারির সময় লাশ গোসল ও দাফন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে মানবিক সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’-এর দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলে আগামী ২০২৬-২০২৮ সেশনের জন্য ১৩ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী সভাপতি এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সংগঠনের সাবেক সভাপতি ডা. এস. এ. ফারুক-এর সভাপতিত্বে এবং সমন্বয়ক হাফেজ মাওলানা শোয়াইব-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক আলহাজ নিজাম উদ্দীন, সাবেক অর্থ ও হিসাব শাখার প্রধান মাওলানা ক্বারি নোমান, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ ভূঁইয়া কনক, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সমন্বয়ক ও সাংবাদিক নুরুল আলম।
সভায় সংগঠনের লাশ গোসল ও দাফন সেবা উপকমিটি, অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
পরে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১৩ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তারা হলেন— সহ-সভাপতি মুহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ ভূঁইয়া কনক, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা ক্বারি নোমান এবং অর্থ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শোয়াইব।
সভায় জানানো হয়, নবগঠিত কার্যকরী কমিটি অল্প সময়ের মধ্যেই সদস্য ও উপদেষ্টা পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে প্রথম সভা আহ্বান করবে।
বক্তারা বলেন, মানবতার সেবায় নিবেদিত ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত এ সংগঠন ভবিষ্যতেও অসহায় ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকবে।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারির ভয়াবহ সময়ে ২০২০ সালের ৮ এপ্রিল ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারীদের দাফন-কাফনে যখন স্বজনরাও এগিয়ে আসতে ভয় পেতেন, তখন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাশের গোসল ও দাফনের দায়িত্ব পালন করেন। অনেক ক্ষেত্রে দিনে ও গভীর রাতে একাধিক লাশ দাফনের মতো কঠিন দায়িত্বও সফলভাবে সম্পন্ন করেছে সংগঠনটি।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে মিরসরাই ছাড়াও ফেনী, নোয়াখালী, রামগড়, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ২৬৮টি লাশের গোসল ও দাফন সম্পন্ন করেছে ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’। বর্তমানে উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে অজ্ঞাত, ভবঘুরে ও বেওয়ারিশ লাশের গোসল ও দাফন কার্যক্রমে সেবাদানকারী উপজেলার একমাত্র সংগঠন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছে তারা।
মানবিক এ কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি দেশে-বিদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়েও ভবঘুরে, অজ্ঞাত পরিচয় ও দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের দাফনসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং অসহায় মানুষের শেষ বিদায়ের বিশ্বস্ত সহযাত্রী হয়ে পাশে থাকবে ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’।