গ্রামবাসীর হাতে আটক
ফেনীতে ডাকাতি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে আটক ৩ ডাকাতকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিল যুবদল নামধারীরা। মঙ্গলবার দিবাগত ভোর রাতে জেলার দাগনভূঞা উপজেলায় এ ঘটনাটি ঘটে।
এলাকাবাসী জানায় যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে দুটি সিএনজি অটোরিকশাযোগে স্থানীয় জায়লস্কর ইউনিয়নের আলামপুর গ্রামের বড় বাড়ির দুবাই প্রবাসী হামিদুল হকের ঘরের সামনে এসে বেশ কয়েকটি বোমার বিষ্ফোরণ ঘটায় ১০/১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত।
একপর্যায়ে ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও জিম্মি করে হামিদুল হকের স্ত্রী গলায় থাকা একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ভুক্তভোগীদের চিৎকারে গ্রামবাসী জড়ো হয়ে তিন যুবককে আটক করে। গণধোলাই দিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলে। ততক্ষণে তাদের সঙ্গে আসা বাকির সদস্যরা ভয়ে পালিয়ে যায়।
এক পর্যায়ে যুবদল পরিচয়ধারী জসিম উদ্দিন বাবু ও তার ছেলে জাহিদ হাসান মিস্টার সরকার দলীয় দাবিদার আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় পুলিশ। তখন গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আটক ৩ জনকে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এ ঘটনায় রাতেই ভুক্তভোগী হামিদুল হক পুলিশের সঙ্গে থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ নিয়ে যুবদল নামধারী একটি পক্ষ থানায় গিয়ে তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারে চাপ সৃষ্টি করে।
শেষে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হবে মর্মে ওই পক্ষটি নানা ভয় দেখিয়ে রাত ৩টার দিকে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক লিখিত নেয় বলে জানা গেছে। ছিনিয়ে নেওয়া সোনার চেইনের বিষয়ে যুবদল নামধারী ওই পক্ষের মধ্যস্থতায় বুধবার বিকালে কিংবা সন্ধ্যার দিকে জায়লস্করের সিলোনীয়া বাজারে বৈঠকের কথা রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমান জানান, বিষয়টি ডাকাতির ঘটনা নয়। প্রবাসী আবদুল হামিদের ছেলে পলাতক ছাত্রলীগ নেতাকে ধরতে ওই ৩ যুবক সেখানে গিয়েছিল। থানায় নিয়ে আসার পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এমএইচ