চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ৮ দিন পর নাসির উদ্দিন আলমাছ প্রধান (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের গলিত লাশ ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি উপজেলার কাশিমপুর পুরন গ্রামের মৃত ওসমান আলী প্রধানের ছেলে।
গত ২১ জুন রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর সোমবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি পাঁচ মেয়ে ও দুই ছেলের জনক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২১ জুন রাতে স্ত্রীকে ঘরে রেখে বাড়ি থেকে বের হন নাসির উদ্দিন আলমাছ প্রধান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে তার ভাতিজা মামুন প্রধানীয়া মতলব দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরবর্তীতে সোমবার সকালে পার্শ্ববর্তী বাড়ির বিল্লাল হোসেন প্রধানের ছেলে গরুর খাবারের জন্য ডোবা থেকে কচুরিপানা কাটতে যান। এ সময় দুর্গন্ধ পেয়ে কাছে গিয়ে তিনি একটি লুঙ্গি ও গলিত লাশ দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা এসে লাশটি নাসির উদ্দিন আলমাছ প্রধানের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের স্বজনদের দাবি, লাশের পিঠ ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদের ধারণা, পূর্বশত্রুতার জেরে বা সঙ্গে থাকা নগদ ৩৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিতে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে রেখে যায়।
নিহতের স্ত্রী নাসিমা আক্তার ও ভাগিনা নজরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের সময় তার কাছে ৩৫ হাজার টাকা ছিল। তাদের ধারণা, পূর্ব বিরোধ বা টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হতে পারে। তবে তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত নন এবং প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের তদন্তের ওপর আস্থা রাখেন।
কাশিমপুর পুরন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর চন্দ দাস বলেন, নাসির উদ্দিন আলমাছ প্রধান বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির দুইবার সদস্য ছিলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি মূলত কৃষিকাজ ও জমিজমা দেখাশোনায় ব্যস্ত থাকতেন।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, “লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। থানায় জিডির ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। পূর্ব শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।”