কিস্তির টাকা জোগাড়ের তাড়নায়
ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের চোচনা গ্রামে নির্মাণাধীন ভবনে বালুচাপা দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী রিনা আক্তারকে (৪৪) হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে মামলার প্রধান অভিযুক্ত রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলামকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঋণের কিস্তির টাকা জোগাড়ের তাড়নায় ওই প্রবাসীর স্ত্রীর কানে থাকা স্বর্ণালংকার লুট করতে গিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে বলে স্বীকার করেছেন রাজমিস্ত্রী সাইফুল।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ফেনীর পুলিশ সুপার উক্য সিংহ।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম (২৯) একই গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে। তিনি নিহতের নির্মাণাধীন বাড়িতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পিবিআই জানায়, গত ১২ মে বিকেলে শর্শদি ইউনিয়নের চোচনা গ্রামে প্রবাসী মোহাম্মদ মানিকের স্ত্রী রিনা আক্তার তাদের নির্মাণাধীন নতুন বাড়িতে পানি দিতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যার পরও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে নির্মাণাধীন ঘরের মেঝেতে থাকা বালুর স্তূপের নিচে তার লাশ দেখতে পান স্বজনরা। ঘটনার পরপরই কাজের রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলাম এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আরিয়ান আরজু বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এই মামলার তদন্ত ভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। মামলার তদন্তভার পেয়ে পিবিআই ফেনী কার্যালয়ের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে বুধবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজীদ বোস্তামি থানার চৌধুরী নগর আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করতে পারায় কয়েক দিন ধরে মানসিকভাবে হয়রানির মধ্যে ছিলেন।
ঘটনার দিন বিকেলে রিনা আক্তার নির্মাণাধীন ভবনে পানি দিতে গেলে স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে সাইফুল তাকে গলা চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয় তার। হত্যার পর নিহতের কানে থাকা এক জোড়া স্বর্ণের দুল খুলে নিয়ে নিহতের লাশ ঘরের ভেতরে থাকা বালুর স্তুপের নিচে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান সাইফুল।
যাওয়ার পথে মোহাম্মদ আলী বাজারে সাড়ে ১৫ হাজার টাকায় স্বর্ণের দুল জোড়া বিক্রি করেন বলেও স্বীকার করেন তিনি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণের দোকান থেকে ওই দুল উদ্ধার করেছে পিবিআই।
পিবিআই ফেনীর পুলিশ সুপার উক্য সিংহ আরও জানান, আসামি সাইফুল প্রাথমিকভাবে সব দায় স্বীকার করেছে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন। শুক্রবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এমএইচ