বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার খাজুরিয়া এলাকায় নির্বাচনি প্রচার চলাকালে বিএনপির ধানের শীষ সমর্থক ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী চিংড়ি প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুপক্ষের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের উপস্থিততে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংঘর্ষে আহতদের স্থানীরা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। ঘটনাস্থলে থেকে পুলিশ ২ জনকে আটক করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদেরকে ১ মাসের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার উপজেলার ৬ নং গুপ্টি ইউনিয়নের হোগলি গ্রামে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বিদ্রোহী প্রার্থী এমএ হান্নানের চিংড়ি প্রতীকের সমর্থকদের পূর্বে নির্ধারিত উঠান বৈঠক চলছিল।
এ সময় বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে ওই স্থানে উপস্থিত হলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় । এসময় উভয় পক্ষের সিনিয়র নেতারা সমর্থকদের নিবৃত করে। এর পর দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় খাজুরিয়া বাজারে চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এমএ হান্নান, সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জিল হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় দুপক্ষের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেন্টু কুমার বড়ুয়া নেতৃত্বে সেনা বাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ বাহিনী উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেন্টু কুমার বড়ুয়া জানান, আমরা ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ঘটনাস্থল থেকে আবুল কাশেম (৩৬) ও আল আমিন (২৬) নামের ২জনকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ মাসের সাজা প্রদান করা হয়।
সংঘর্ষে ধানের শীষ সমর্থক ৬নং গুপ্টি ইউনিয়নের যুবদল নেতা রাজু পাটোয়ারী (২৭), কবির হোসেন (৩০), রাহুল দাস (২৫), ইউনিয়ন ছাত্রদল সিনিয়র সহ সভাপতি মারুফ হোসেন (২৭), ছাত্রদল নেতা শাহ মুন্না (৩২), ইউনুস (২৫), রাসেল হোসেন (৩০) এবং চিংড়ি প্রতীকের ফারুক হোসেন (৪২), জিশান (২১), রাজু আহমেদ (৩৫), নাহিদ (১৯), মেহেদী (২১), আক্তার হোসেন (৪০), মনির হোসেন (৪০), এমরান হোসেন ( ৪১), মাছুম (৩৫) মোর্শেদ আলম (৪৫) আহত হয়। আহতদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।