কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা খরুলিয়া এলাকায় মাহমুদুল হক নামের এক ব্যবসায়ীকে গাড়ি থামিয়ে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি করা হয়েছে। ওই ব্যবসায়ী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে গুলি করা হয়।
তবে এ ঘটনায় শহরতলির লিংকরোড এলাকার বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর নির্দেশে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছেন আহত ব্যবসায়ীর স্বজনেরা।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খরুলিয়ার গ্যাসপাম্প এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক লিংকরোড এলাকার দক্ষিণ মুহুরীপাড়ার মৃত আশরাফুজ্জামানের ছেলে।
আহত ব্যবসায়ীর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক কাজে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি মাইক্রোবাসে করে রামুর উদ্দেশে রওনা হন। খরুলিয়া গ্যাসপাম্প এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত গাড়ির গতিরোধ করে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে । একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র বলছে, সন্ত্রাসীদের গুলি খেয়ে মাহমুদুল হক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে এলোপাতাড়ি গুলি করতে করতে অনেক দূর তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনাস্থল থেকে আবু নাসের নামের এক হামলাকারীকে স্থানীয় জনতা আটক করলেও ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদ তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে এ বিষয়ে বিএনপি নেতা রাশেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আহত মাহমুদুল হকের বোন ও ভাইয়ের ছেলে মনিরের অভিযোগ, লিংকরোডের লিয়াকত আলীর নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তাদের দাবি, হামলায় জড়িত ৬ জনের মধ্যে ৪ জনকে শনাক্ত করেছেন মাহমুদুল হক। তারা হলেন—জায়েদ, ওয়াদেদ আলী, কিতাব আলী ও আবু নাসের।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পর পুলিশের একটি দল কাজ করছে। হামলায় জড়িত কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে।
তিনি আরো বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীর সঙ্গে গুলিবিদ্ধ মাহমুদুল হকের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। লিয়াকত আলী ও গুলিবিদ্ধ মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
এমই