হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

ধনাগোদা নদী অচল থাকায় বন্ধ আট লঞ্চঘাট, বাড়ছে দুর্ভোগ

শেখ ওমর ফারুক, মতলব উত্তর (চাঁদপুর)

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কালীর বাজার এলাকায় ধনাগোদা নদী এখন কার্যত অচল। কচুরিপানা জমাট, অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারিত্বের কারণে এই নদীতে নৌচলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো। সেই সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

এ নদীপথ দিয়েই মতলব উত্তরের ধনাগোদা তালতলী উচ্চবিদ্যালয়, দাউদকান্দির মোল্লাকান্দি লালমিয়া পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রছাত্রীরা যাতায়াত করে। এছাড়া দাউদকান্দি, মতলব উত্তর, গজারিয়া উপজেলার লোকজন নিয়মিত যাতায়াত করত। কিন্তু নদীতে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই উপজেলার শিক্ষার্থী ও লোকজন নদীর দুপাশে অর্ধেক করে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে।

শ্রীরায়ের চর ব্রিজ থেকে কালীর বাজার পর্যন্ত ধনাগোদা নদীর প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কচুরিপানা জমাট বেঁধেছে। এই অংশে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে নৌচলাচল।

একই সঙ্গে অচল হয়ে পড়েছে নদীপথের অন্তত আটটি লঞ্চঘাট। ফলে মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ এবং পার্শ্ববর্তী মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া ও দাউদকান্দি উপজেলার সঙ্গে নৌযোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অবৈধ জাগ ও দখলদারিত্বে মরতে বসেছে নদী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধনাগোদা নদীর দুই পাড়ে বছরের পর বছর ধরে অবৈধভাবে মাছ ধরার ফাঁদ বসানো হয়েছে। ফলে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কচুরিপানা সরে যেতে না পেরে নদীতে জমাট বেঁধেছে। এতে নদীটি সবুজ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা ও নিয়মিত খনন না হওয়ায় নদীটি দিনে দিনে ভরাট হয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে। ব্যবসায়ীরা এ নদীপথ দিয়েই ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য আনা-নেওয়া করতেন। কিন্তু দখল, দূষণ, অবৈধ জাগ ও কচুরিপানার আগ্রাসনে সেই নদী আজ অচল হয়ে পড়েছে।

সেই সাঁকো দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে শিক্ষার্থীরা। একদিকে নদীর বুকে কচুরিপানার সাগর, অন্যদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মোল্লাকান্দি লালমিয়া পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, নৌকা না থাকায় প্রতিদিন স্কুলে যেতে আমাদের বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়।

কালীর বাজারের ব্যবসায়ী শাহজালাল বলেন, নদীটি আমাদের জীবনরেখা ছিল। এখন সেই নদী কচুরিপানার জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন যদি আগে ব্যবস্থা নিত, আজ শিক্ষার্থীদের বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হতো না। স্থানীয়রা দ্রুত ধনাগোদা নদী খনন, অবৈধ জাগ উচ্ছেদ, কচুরিপানা পরিষ্কার এবং দখলমুক্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়— নদী বাঁচলে বাঁচবে জনপদ, নইলে ধনাগোদা হয়ে যাবে আরেকটি মৃত নদী।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে আমি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, কচুরিপানা অপসারণ, অবৈধ জাগ উচ্ছেদ এবং নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসিনার চেয়ে দেশে বড় হুমকিবাজ আর কেউ ছিল না

খালেদা জিয়াকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির

লক্ষ্মীপুরে বিকেলে বক্তব্য দেবেন জামায়াত আমির

৩৬টি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ করা হবে

কুমিল্লা টাউন হলের সভায় যোগ দেবেন জামায়াত আমির

বাঁশখালীতে বিএনপির গলার কাঁটা স্বতন্ত্র প্রার্থী, সুবিধা পেতে পারে জামায়াত

সম্প্রীতির চট্টগ্রাম গড়ার রাজনীতি করছি

ফেনীতে জামায়াতের সমাবেশ শুরু, নেতাকর্মীদের ঢল

ভোলায় বিএনপি প্রার্থীকে জরিমানা

বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন জাকির হোসেন