সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার তিন মাসেই চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী ও হালিশহর) আসনে ব্যতিক্রমী পরিবর্তন ঘটিয়েছেন জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনভোগান্তিকে গুরুত্ব দিয়ে এবং অসহায় মানুষের দুঃখ লাঘবে করা এসব কাজে দিনে দিনে বাড়ছে সুফল ভোগকারীর সংখ্যাও। সচেতন মহল বলছে, অচিরেই তার উদ্যোগগুলো সারা দেশের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে।
জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রগুলোর বাইরে অভিভাবকদের জন্য তার পক্ষ থেকে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ ছাউনি (প্যান্ডেল), বসার ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি ও নাশতা বিতরণের কর্মসূচি চালু করেন। জুলাই শহীদ ফারুকের সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। রাহরাইনে মিসাইলের আঘাতে নিহত আবুল মহসীনের একমাত্র মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে সাড়ে ৮ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন।
হালিশহরে একটি বাসাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটার পরপরই ভুক্তভোগীদের দেখতে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সাঈদ আল নোমান। তিনি তাৎক্ষণিক পরিদর্শনে আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে গিয়েও আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথা বলেন। এ ছাড়া আহতদের চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ২০ হাজার টাকা অনুদান দেন।
একইভাবে মহিলা দলের নেত্রী শামসুন্নাহার যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছিলেন, তখন তার পাশে ভরসার হাত বাড়িয়ে দেন এই এমপি। একজন ত্যাগী কর্মীর পাশে এভাবে সংসদ সদস্যের দাঁড়ানোর ঘটনা দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
সংসদ সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েই চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে তিনি জাতীয় সংসদে প্রথম সরব হয়ে ওঠেন। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অত্যন্ত জোরালোভাবে তিনি চট্টগ্রামের এই জলাবদ্ধতা সমস্যা তুলে ধরেন।
সংসদে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির সমস্যা, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের উপদ্রব বন্ধে এবং চিকিৎসা খাতের বেহাল দশা নিয়ে কথা বলেছেন সাঈদ আল নোমান। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। চট্টগ্রামে একটি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল ও দেশের সব সংসদীয় আসনে একটি করে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
চলতি বছরের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে নগরের অর্ধশতাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে একটি আলোচনা সভা ও সংবর্ধনার আয়োজন করেন। এতে মহান মুক্তিযুদ্ধে সূর্যসন্তানদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার হাতে একটি করে বিশেষ ডায়েরি তুলে দেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন কতটুকু পূরণ হয়েছে, যোদ্ধারা এই ডাইরিতে সেটি লিখবেন বলে জানান সাঈদ আল নোমান।
সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, রাজনীতি হলো জনগণের দুঃখ-কষ্টে তাৎক্ষণিক পাশে দাঁড়ানো। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের মূল্যায়ন করা এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের অবহেলিত অধিকার ও উন্নয়ন (জলাবদ্ধতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা) আদায়ে আপসহীনভাবে কাজ করা আমার অন্যতম লক্ষ্য। মানুষের পাশে থাকার মধ্যে যতটা আনন্দ, তৃপ্তি তা অন্য কোথাও নেই। বাকি জীবন এ কাজই করে যেতে চাই।
জেডএম