হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের ডিসি হিলে ফের প্রাণচাঞ্চল্যের আশা

জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের হৃদয়ে অবস্থিত ডিসি হিল। এটি কেবল একটি পাহাড় বা পার্ক নয়, নগরীর সাংস্কৃতিক চেতনা, ঐতিহ্যের প্রতীক। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বিধিনিষেধের বেড়াজালে স্তিমিত হয়ে পড়া উৎসবের এই প্রাণকেন্দ্র আজ (পহেলা বৈশাখ) আবার নতুন সম্ভাবনার আলো দেখছে।

নতুন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া ডিসি হিলের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নগরবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার করছে। দ্রুত সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবনের পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ডিসি হিলকে আবারও জনমানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

ডিসি হিল শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থান নয়, এটি বহন করে বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিও। ১৯২৬ সালের জুলাইয়ে প্রথম চট্টগ্রামে আসেন তিনি। কলকাতা থেকে এসে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের ডাক বাংলোতে ডিসি হিলে অবস্থান নেন। চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্র সংসদের নেতা ও তার বন্ধু হবিবুল্লাহ বাহারের আমন্ত্রণে কলেজের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবি। পরে নগরীর আন্দরকিল্লার শাহী জামে মসজিদে সভায় অংশগ্রহণ করেন নজরুল। যেখানে তাকে ‘কবি সম্রাট’উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তার এই আগমন চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

নজরুলের ঐতিহাসিক আগমনকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ডিসি হিলে নজরুল স্কোয়ার তৈরি কবির ‘চরণচিহ্ন’নির্মাণ করে। পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালের ১০ এপ্রিল তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির নজরুল স্কোয়ার উদ্বোধন করেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই নজরুল স্কোয়ার, ফলক, গ্যালারিসহ, চরণচিহ্নের অনেক অংশই অবহেলায় নষ্ট হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও সেই স্মৃতির অস্তিত্বও আর চোখে পড়ে না।

ডিসি হিলে বর্ষবরণের ইতিহাস দীর্ঘ ৪৭ বছরের। ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রামে বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুরু হলেও, ১৯৭৮ সাল থেকে ডিসি হিল হয়ে ওঠে এই উৎসবের প্রাণকেন্দ্র। প্রতি পহেলা বৈশাখে এখানে জড়ো হতো সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ, রঙ আর সংস্কৃতির মিলনমেলায় নতুন বছরকে বরণ করতে।

ব্রিটিশ আমলে এখানে ছিল চাকমা রাজার বাসভবন। পরবর্তী সময়ে এটি জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের আবাসিক এলাকায় রূপ নেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্থানটি ধীরে ধীরে মানুষের সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্র হয়ে ওঠে, যেখানে শিল্প-সাহিত্য ও জনসম্পৃক্ততা একসঙ্গে বিকশিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৭ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক পহেলা বৈশাখ ছাড়া অন্য সব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন। ‘কোলাহল’, সাউন্ড সিস্টেমের শব্দ, ব্যক্তিগত প্রাইভেসি এবং সন্ধ্যার পর কিছু অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেহেতু ডিসি হিলের চূড়ায় জেলা প্রশাসকের বাসভবন অবস্থিত, তাই সাধারণ মানুষের অবাধ চলাচল ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে ডিসি হিলের প্রাণচাঞ্চল্য অনেকটাই স্তব্ধ হয়ে পড়ে—যা নগরবাসীর জন্য ছিল গভীর হতাশার । এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো স্মারকলিপি, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানালেও দীর্ঘদিনেও বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়নি।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়ার উদ্যোগে বর্তমানে ব্যাপক সংস্কার, সৌন্দর্যবর্ধন করেছে। ফলে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নাগরিকরা আশা করছেন—ডিসি হিল আবারো উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হবে।

এটি শুধু একটি স্থান নয়— চট্টগ্রামের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আবেগের ধারক। নজরুলের পদচারণায় ধন্য এই ভূমিকে সংরক্ষণ ও পুনর্জীবিত করা মানে শুধু একটি পার্ক নয়, বরং একটি শহরের আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখা।

হেল্পারের হাতে স্টিয়ারিং, জীবিকার সন্ধানে এসে লাশ হয়ে ফিরলেন ৭ শ্রমিক

পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে ফেনীর সেই ৯২ শিক্ষার্থী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ৭

দেবিদ্বারে মাদ্রাসার দেয়াল ধসে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার

চাঁদপুরে ৪৫টি বাজারে ১ বৈশাখ থেকে বন্ধ হচ্ছে খাজনা উত্তোলন

ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করে ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করব : অ্যাড. তারিকুল

আন্দামান সাগরে ট্রলার ডুবে ২৬৪ বাংলাদেশি নিখোঁজ

মহাসড়কে আনসারদের বহনকারী তিন বাসের সংঘর্ষে সাতজন হাসপাতালে

কাজের মান নিয়ে অভিযোগ তোলায় প্রকৌশলীকে বাঁশ নিয়ে দৌঁড়ালেন ঠিকাদার