কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সরকারি হাটের অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে অধিকাংশ ব্যবসায়ী কাঠ বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। রোববার উপজেলার গৌরীপুর বাজারে সাপ্তাহিক কাঠ বাজার অনেকটাই ফাঁকা দেখা যায়।
জানা যায়, চলতি বছর বার্ষিক দুই কোটি ৪০ লাখ টাকায় উপজেলার গৌরীপুর হাট-বাজার ইজারা নেন তিতাস উপজেলার সোলাকান্দি গ্রামের আরিফ সরকার নামের এক ব্যবসায়ী। এর সাথে ভ্যাট ও আয়কর শতকরা ১৫ টাকা ও ১০ টাকা যুক্ত হয়। এ বাজারে প্রতি রোববার সাপ্তাহিক কাঠবাজারসহ প্রতিদিনই অন্যান্য বাজার বসে। সরকারি বিধিমোতাবেক টোল আদায়ের নিয়ম থাকলেও বাজারের কোথাও টোলের চার্ট না থাকায় ইজারাদারের লোকজন যেভাবে খুশি খাজনা আদায় করছেন। নতুন বছরের শুরুতে গত সপ্তাহে আগের তুলনায় অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কারণে এ সপ্তাহে অর্থাৎ আজ রোববার প্রায় ২০/২৫ জন কাঠ ব্যবসায়ী বাজারে আসেননি বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
বাতাকান্দি গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, ১৫ বছর যাবৎ গৌরীপুর বাজারে কাঠ ব্যবসা করি, খাজনা ১৫০ টাকা থেকে দেয়া শুরু, কোনো সপ্তাহ কম বেশি খাজনা দেই। আমার ছোট দোকান, গত সপ্তাহে ২৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। আজকে বাজারে অনেক ব্যবসায়ী আসেনি বেশি খাজনা দিতে হয় বলে। আমি ক্ষুদ্র ব্যবসা করে সংসার চালাই, তাই আসছি।
২৫ বছর যাবত এই বাজারে ব্যবসা করছেন গজারিয়া উপজেলার বৈসারচর ও বাসারচর গ্রামের দুলাল মিয়া ও সিপন মিয়া। তারা বলেন, আমাদের বড় দোকান ৩০০ টাকার খাজনা থেকে শুরু করে গত বছর ৫০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত খাজনা দিয়েছি। এবছর নয় হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে দোকান বসালেই ভাড়া, লেবার ও খাজনা মিলে আমাদের ২৫/৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি হোক বা না হোক এই খরচ ঠিকই দিতে হয়। আমরা এক প্রকার জিম্মি, কোনো কিছু বলতে পারি না। বাপদাদার এই পেশা বদল করে অন্য পেশা হয়তো খুঁজে নেব কিন্তু এমন চলতে থাকলে গৌরীপুর বাজার তার ঐতিহ্য হারাবে।
এ বিষয়ে গৌরীপুর হাট-বাজারের ইজারাদার আরিফ সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেডএম