হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহনের দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা

উপজেলা প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রির এক উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ফসল নষ্ট করে কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে ট্রাক ও ডাম্পারযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। এতে দ্রুত কমে যাচ্ছে তিন ফসলি কৃষিজমি। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশের ওপরও পড়ছে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলাতেই প্রকাশ্যে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ট্রাকে করে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বালু উত্তোলন, পুকুর ভরাট এবং কৃষিজমি ও খাসজমি ভরাটের মতো কর্মকাণ্ডও অব্যাহত রয়েছে ।

শনিবার দুপুরে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে কৃষিজমির উর্বর মাটি অবৈধভাবে কাটা ও পরিবহনের দায়ে দুজনকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে ঘটনাস্থলে মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে গাড়িচালক কাউছার হোসেন সাকিব ও আব্দুল মোতালেবকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ফসল নষ্ট করে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় এখনো অব্যাহত রয়েছে কৃষিজমি কাটা ও ভরাটের মতো কর্মকাণ্ড। এতে একদিকে দ্রুত কমে যাচ্ছে কৃষিজমির পরিমাণ, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে।

সম্প্রতি বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের এসকে এম জুট মিল এলাকায় মহাসড়কের জায়গা দখল করে পুকুর ভরাট এবং দিনের বেলায় কৃষিজমি ভরাট করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। একইভাবে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আরআর জুট মিল এলাকায় কারখানার নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে বালু দিয়ে ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সৈয়দপুর ইউনিয়নে সাগর থেকে বালু উত্তোলন করে প্রায় অর্ধশত একর খাসজমি ভরাটের ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এছাড়া সৈয়দপুর ও বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ফসল নষ্ট করে জমির উর্বর মাটি কেটে ট্রাকে করে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় অসাধু চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে একদিকে কৃষিজমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এ অবস্থায় অবৈধভাবে ফসলি জমি কাটা, বালু উত্তোলন ও জমি ভরাট বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনারের ইফতার

কুতুবদিয়ায় মাঠে লবণের কেজি ৪ টাকা, লোকসানে চাষিরা

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে জ্বালানিবাহী ৮টি জাহাজ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিনতাই আতঙ্ক

হরমুজ পেরিয়ে ১৫ জাহাজ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায়

উখিয়ায় স্বামীর লাথিতে স্ত্রীর মৃত্যু, পলাতক স্বামী

চাটখিলে ছাত্রদল কর্মীকে কোপাল আ.লীগের নেতাকর্মীরা

বাঁশখালীতে বিএনপি নেতার মব সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

কুমিল্লায় কাঁচাবাজারে কৃষিমন্ত্রী হাজী ইয়াছিন

পটিয়ায় সংসদ সদস্য এনামকে সংযমী হতে বললেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক