হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

টানা বৃষ্টিতে বান্দরবান স্থবির, আগাম প্রস্তুতিতে ক্ষতি কম

পাহাড়ধসে ৭ ঘর ক্ষতিগ্রস্ত, তিনজন আহত

জেলা প্রতিনিধি, বান্দরবান

ছবি: আমার দেশ

টানা চার দিনের অতিভারী বর্ষণে বান্দরবানে জনজীবন চরমভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা, নদনদীর পানি বৃদ্ধি এবং সড়ক প্লাবিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। পাহাড়ধসের একাধিক ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ১ দশমিক ২৬ মিটার (১২৬ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্য বারবার মাইকিং ও সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার আবু আবদুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাঘাটা বড়ুয়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে একটি পাকা দালান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ায় বাসিন্দারা আগে থেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি। তবে এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন।

পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নিপুণ বড়ুয়া, রন বড়ুয়া, অঞ্জনা বড়ুয়া ও সুমন বড়ুয়ার পরিবার। এদিকে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে পৌর শহরের কসাইপাড়া এলাকায় একটি বড় পাহাড়ধসে বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের ওপর পড়ে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

অন্যদিকে, থানচি উপজেলার বলিপাড়া বাগানপাড়া এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান-থানচি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একইভাবে সড়ক প্লাবিত হওয়ায় রোয়াংছড়ি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানান, লেমুছড়ি-দোছড়ি সড়কে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এছাড়া তুমব্রু এলাকায় পানিবন্দি ৮০টি পরিবারকে ত্রাণ-সহায়তা এবং আরও ২০০ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার, চাল ও ডাল বিতরণ করা হয়েছে।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আলম জানান, প্রবল বর্ষণে গাছ উপড়ে পড়ে উপজেলার দুটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন বান্ডিল টিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট ও স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক খোলা রাখা হয়েছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রæত সাড়া দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এমএইচ

আট দিন ধরে পাহাড়ে বন্দি, উদ্ধার জিম্মিদের বর্ণনায় নির্যাতনের চিত্র

সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধে ধস, চরম দুর্ভোগে মানুষ

কুমিল্লায় ওয়াকফের শতকোটি টাকার জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ

চাঁদপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ ৩০ নেতাকর্মী আটক

সাত বছরের সামিরকে চাপা দিয়ে পালাল অটোরিকশা

মাইশার মৃত্যুর পর বসানো রাম্বল স্ট্রিপও টিকল না, ঢাকা থেকে যাচ্ছে বিশেষজ্ঞ দল

ব্যবসায়ীকে গাড়ি থামিয়ে প্রকাশ্যে গুলি, অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাটির নিচে পুঁতে রাখা ওয়ান শুটারগান ও গুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

চাঁদপুরে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগ, জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান

হাদি হত্যার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’