আমাদের যেই টাকা বেতন দেওয়া হয় সেটি দিয়ে সংসারের ব্যয় বহন করা দু:সাধ্য হয়ে পড়ে। না চলে চিকিৎসা খরচ, না চলে ঘর ভাড়া। ঈদে কাপড় কেনা আমাদের জন্য স্বপ্নই থেকে যায় প্রতিবার। তাছাড়া পরিবারে মা-বাবাকে কাপড় দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও তা হয়ে ওঠেনা সীমাবদ্ধতার কারণে। বছরজুড়ে ঋণে জর্জরিত থাকতে হয় আমাদের। এবার প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছেন ঈদের আগে। আমরা এটি পেয়ে অনেক বেশি আনন্দিত। এবার স্বস্তিতে ঈদ কাটানো যাবে।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান হাতে পেয়ে এভাবেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পিংকি হিজড়া। শুধু তিনি নয়, তার আরও পাঁচ সঙ্গীর চোখে-মুখেও এবার হাসির ছাপ। ঈদের আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বাড়তি টাকা পেয়ে তারা খুশী। এছাড়াও তাদের মতো ৩ হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীও এই অনুদান পেয়ে আনন্দিত।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের হাতে চেক তুলে দেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই একটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার মূল চালিকাশক্তি। তারা দিন রাত পরিশ্রম করে, রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরবাসীর জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করেন। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই ঈদ উপহার একটি মানবিক উদ্যোগ, যা কর্মীদের মনোবল আরও বাড়াবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ, যার উপর পুরো নগরের ভাবমূর্তি নির্ভর করে।
মেয়র আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে পরিবর্তন এনে রাতের বেলায় ময়লা অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যার ফলে শহরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা অনেকটাই উন্নত হয়েছে। তবে এখনও কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে ময়লা পরিবহনের সময় রাস্তায় বর্জ্য পড়ে যাওয়া, যানবাহন দ্রুত চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
অনুদানে পেয়ে তৃতীয় লিঙ্গের পরিচ্ছন্ন কর্মী আনারকলী হিজড়া বলেন, নগরে আমরা মাত্র পাঁচজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ পরিচ্ছন্নতা কাজে যুক্ত আছি। আমাদের চাকরীর কোন নিয়োগপত্র নেই। কেউ ৮-১২ বছর চাকরী করলেও চাকরী স্থায়ী করা হয়নি। এরপরও প্রধানমন্ত্রী যে অনুদান দিয়েছে সেটি আমাদের জন্য আনন্দের। এতে ঈদের আগে আমাদের বাড়তি আয় যোগ হলো। আমরা দাবি জানাই আমাদের যেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
অনুদান পেয়ে সুজিত দাশ জানান, আমাদের যে উপকার হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ১৭ বছর ধরে কাজ করলেও এই ধরণের অনুদান প্রথমবার পেয়েছি। আশা করি এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। একই কথা বলেন, তৌহিদুল আলম। তিনি বলেন, প্রতিবছর আমাদের ঋণ করে ঈদের খরচ যোগাতে হয়। নামমাত্র বেতনে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চলে না, ঘরের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেও হিমশিম খেতে হয়। প্রতিবছর বাড়িভাড়াও বাড়ছে। খরচ বাড়লেও আমাদের আয় বাড়ছে না। অথচ আমরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা নগর পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত থাকি।