সার্ফিং টুর্নামেন্ট উদ্বোধনকালে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
সমুদ্রের নীল জলরাশির বুকে একেকটি সার্ফিং বোর্ড যেন একেকটি জলরঙের তুলি। কখনও বিশাল ঢেউয়ের সাথে মিতালি, আবার কখনও উত্তাল সমুদ্রকে জয় করার নেশা। কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে এভাবেই ঢেউয়ের পিঠে চড়ে খেলছিলেন লড়াকু সার্ফাররা। শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে লোনাজলের এই যোদ্ধাদের লক্ষ্য যেন আকাশছোঁয়া। পানির সাথে মিতালী করা এই যোদ্ধাদের শুরু হয়েছে ‘কিউট ৮ম জাতীয় সার্ফিং টুর্নামেন্ট’।
শুক্রবার সকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে বর্ণাঢ্য এই আসরের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এসময় তিনি কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে ‘স্পোর্টস ট্যুরিজম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি বলেন, সার্ফিং সম্ভাবনাময়ী একটি ক্রীড়া, যার মাধ্যমে পর্যটন খাতও উপকৃত হতে পারে।
দুদিনের এই আসরে পুরুষ ও নারী বিভাগে অংশ নিয়েছেন ৭০ জন দেশি সার্ফার। এ টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করবে এই তরুণরা। তবে সার্ফাররা বলছেন, সঠিক প্রশিক্ষণ আর সুযোগ পেলে প্রশান্ত মহাসাগরের বড় বড় ঢেউয়েও তারা বাংলাদেশের জয়গান গাইতে সক্ষম।
বাংলাদেশ সার্ফিং এসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মুজাহিদ উদ্দিন বলেন, ক্রিকেটের মত সার্ফিংয়েও যদি জোরালো পৃষ্ঠপোষকতা মেলে, তবে এশিয়ান গেমসের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে পদক আনা অসম্ভব কিছু নয়।
উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী সার্ফিংয়ের জন্য নির্ধারিত নিজস্ব জায়গা পরিদর্শন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় তিনি ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতিমধ্যে ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে নতুন স্পোর্টস কার্যক্রম এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে বাধ্যতামূলক করার কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কক্সবাজারের এই লোনাজলে যে স্বপ্নের বীজ বোনা হয়েছে, তা এখন বৈশ্বিক ডালপালা মেলার অপেক্ষায়। সঠিক তদারকি আর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই সার্ফাররাই হতে পারেন বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর।