অধ্যাদেশে ছিলো না আবৃত্তি
আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্তি না করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ার চূড়ান্ত ও নীতিগত অনুমোদন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গত বৃহস্পতিবার আবৃত্তিকে ‘স্বতন্ত্র বিভাগ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীকে চিঠি দেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তার এক দিন পর শুক্রবার জাতীয় সংসদে অধ্যাদেশটি অনুমোদন হলে সেখানে আবৃত্তিকে বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার এক ডিও (ডেমি অফিসিয়াল) চিঠির মাধ্যমে সাঈদ আল নোমান সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করলে শুক্রবার তা সামনে আসে। সাঈদ আল নোমান বলেন, ‘আবৃত্তি চর্চা আমাদের সংস্কৃতির প্রাণস্পন্দন, ভাষার রক্তে জাগ্রত জাতির হৃদস্পন্দন। আবৃত্তি শুধু শিল্পই নয়, এটি জাতির উৎকর্ষের মাধ্যম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে আবৃত্তি বাদ দিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুমোদন করা হয়। এমনকি সেখানে আবৃত্তি শব্দটিও উল্লেখ করা হয়নি।
জানা যায়, চিঠিতে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীকে উল্লেখ করেন, নতুন অধ্যাদেশে শিল্পকলার বিভাগের সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ৯ করা হলেও সেখানে আবৃত্তিকে স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ধারাকে অবমূল্যায়নের শামিল। আবৃত্তি কেবল একটি শিল্পমাধ্যম নয়; এটি ভাষা, সাহিত্য ও জাতির চেতনার অন্যতম বাহক। বিশেষ করে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে আবৃত্তির ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই শিল্পচর্চা নতুন প্রজন্মকে মানবিক, সচেতন ও সংস্কৃতিমনস্ক করে গড়ে তুলতে সহায়ক। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে দেশে অসংখ্য আবৃত্তিশিল্পী ও সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আবৃত্তিকে যথাযথভাবে স্থান না দিলে এ খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে শিল্পকলার সামগ্রিক বিকাশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অপরদিকে শুক্রবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৩তম দিনে ১০টি বিলের সঙ্গে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি অধ্যাদেশ, ২০২৬ পাস হয়।