চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু দলীয় বিভক্তি এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দলটি চাপে রয়েছে। বিএনপির বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থী লিয়াকত আলী এখন বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ আসনে বিএনপির ভোট দুই ভাগ হয়ে যাওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিজয়ের স্বপ্ন দেখছেন জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম। তবে এখানে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির ভোটাররা মোক্ষ ভূমিকা পালন করবে প্রার্থী বিজয়ের ক্ষেত্রে। শেষ পর্যন্ত কে পরবেন বিজয়ের মালা তা দেখার জন্য ভোটের শেষে গণনা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এছাড়া আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বা চরমোনাই পীরের হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার ও গণঅধিকার পরিষদের আরিফুল ইসলাম তায়েফ ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আসনটিতে কয়েকটি দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যেই ত্রিমুখী লড়াই হবে।
বাঁশখালীতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৯০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২ হাজার ৩২১ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮১ জন, তৃতীয় লিঙ্গের চারজন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকে বিএনপি থেকে ধানের শীষের প্রার্থিতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখানে শুরু থেকে মনোনয়নের বিরোধিতা করছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, গন্ডামারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে। এরপর তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী বলেন, আগামী ১২ তারিখ বাঁশখালীর আপামর জনতা ফুটবল মার্কায় রায় দিয়ে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে মজলুমের পক্ষে রায় দিবেন।
অপরদিকে বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বলেন, আমি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সন্তান, আমার বাবাকে বাঁশখালীর মানুষ খুবই ভালোবাসতেন, আমার বাবার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করতে এবং তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে বাঁশখালীর মানুষ আমাকে বিজয় করবেন ইনশাআল্লাহ।
এখানে বিএনপির ভোট দুই ভাগ হওয়ার সুবিধায় জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম বিজয়ের স্বপ্ন দেখছেন। মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার মানুষ ইসলাম প্রিয়, তাই তারা আগামী নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে রায় দিবেন।
বর্তমানে মাঠে জামায়াতের ভালো অবস্থান দেখা গেলেও, শেষ পর্যন্ত এমন পরিস্থিতি থাকবেনা বলে ধারণা করেন এ আসনের বিএনপির সাধারণ সমর্থকরা। তারা মনে করেন, বিএনপির সাবেক নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম আলহাজ্ব জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর এ আসনে তার পুত্র মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পাকেই জনগণ ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। অন্যদিকে, মাঠে ধীরে ধীরে বাড়ছে বিএনপির বহিষ্কৃত, স্বতন্ত্র প্রার্থী লিয়াকত আলীর জনসমর্থন। এ ধারা ১২ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকলে ত্রিমুখী লড়াইয়ে চমক দেখাতে পারেন আলোচিত চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী।