লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আলোচিত মা ও তিন মেয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনায়েদ ইসলাম সিফাতের খোঁজখবর নিয়েছে জেলা জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে সিফাতের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে রায়পুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার নিহত পরিবারের বাসায় গিয়ে জেলা জামায়াতের আমীর মাষ্টার রুহুল আমীন ভূঁইয়া সিফাতের সঙ্গে কথা বলেন এবং তার সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মুনাজাতে অংশ নেন জামায়াতের নেতারা।
এ সময় জেলা জামায়াতের আমীর মাষ্টার রুহুল আমীন ভূঁইয়া বলেন, পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য সিফাতের দায়িত্ব জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে। তার লেখাপড়াসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক ব্যয়ের দায়িত্বও আমরা গ্রহণ করব। এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা সিফাতের সঙ্গে কথা বলেছি। সে জানিয়েছে, সে রায়পুরেই থাকতে চায়। যদিও তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়, তবে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা রায়পুরে। সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। আমরাও চাই সে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করে একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।
হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন দ্রুত এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করে। এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর মনির আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আব্দুল আউয়াল রাছেল, পৌর জামায়াতের আমীর হাফেজ ফজুল করিম, নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি আশরাফুল ইসলাম রাকিব, পৌর ৩ নং ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর মামুনসহ উপজেলা ও পৌর জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি বাসায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে সিফা আক্তারকে (৯) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন ঘাতক অন্তর মজুমদার জনতার গণপিটুনিতে নিহত হন।
নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য জুনায়েদ ইসলাম সিফাত শুরু থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবাকে হারানোর পর ২০২৬ সালে মা ও তিন বোনকে হারিয়ে সিফাত এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।