ফেরি সার্ভিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ফেরি সার্ভিস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অনুষ্ঠানে আসা হাজারো মানুষ আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটতে থাকেন।
শুক্রবার বিকেলে নলচিরা–চেয়ারম্যান ঘাট নৌপথে ফেরি ‘মহানন্দা’ সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী ফেরি সার্ভিসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান আরিফ আহম্মেদ মোস্তফা, হাতিয়া দ্বীপ সমিতি ঢাকার সভাপতি ডা. জাহেদুল আলম, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জতনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় সাংবাদিকরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ফেরি চালুর কৃতিত্ব দাবি করে পৃথকভাবে স্লোগান দিতে থাকে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে স্লোগানকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. ইউছুপ (৩০), ফারুক (৩৫), মো. রায়হান (৩০) এবং কোস্ট গার্ডের ড্রাইভার মহসিনসহ অন্তত ১০ জন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, ফেরি সার্ভিস চালু হলে দ্বীপবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। বাস, মিনিবাস, প্রাইভেটকার ও পণ্যবাহী যান চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে, বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন কার্যক্রম।
হাতিয়া দ্বীপ সমিতির সভাপতি ডা. জাহেদুল আলম বলেন, “ফেরি সার্ভিস হাতিয়ার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। পারস্পরিক দ্বন্দ্বে জড়ালে এ অর্জন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
ফেরির চালক মাস্টার মোজাম্মেল হক জানান, ফেরিটি জোয়ার-ভাটার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলবে এবং এতে প্রায় ২৫০ টন ধারণক্ষমতা রয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হাতিয়ার মানুষ ফেরি সার্ভিসসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। ফেরি সার্ভিস চালুর মাধ্যমে সে দাবির একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন হলো।