দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা এক মামলায় ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রধান আসামি বিজয় কুমার দাস (৪০)কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মামলার অপর চার আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ লাখ ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে অনাদায়ে আরো একবছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়।
রোববার চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। মামলার নথি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে এ রায় প্রদান করা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন, জুনিয়র ক্যাশ অফিসার মো. রাজিবুর রহমান (২৮), আর্মড গার্ড মো. আশিকুর রহমান (২৬), মো. তানজুর রহমান (২৫) এবং মো. মাজহারুল ইসলাম (২৯)। তারা সবাই পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানাধীন সিডিএ কর্পোরেট শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন।
দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম রনি। তিনি জানান, আসামিরা ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে টাকা সংগ্রহের সময় পরিকল্পিতভাবে অর্থ আত্মসাৎ করেন, যা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সিডিএ কর্পোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন শাখায় টাকা পরিবহনের সময় ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
ঘটনার দিন একটি মাইক্রোবাসে করে ব্যাংকের টাকা পরিবহন করা হচ্ছিল। সীতাকুণ্ড এলাকায় পৌঁছালে গাড়ির পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান সংশ্লিষ্টরা। পরে দেখা যায়, টাকার একটি বস্তা নিখোঁজ। এ ঘটনায় সন্দেহভাজনদের আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়।
পরবর্তীতে তদন্তে প্রমাণিত হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পরস্পরের যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।