শিক্ষার মাঠ যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে পশুর হাটে। কুমিল্লার একটি স্কুল মাঠে ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবারও গরুর হাট বসানোর প্রস্তুতি ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে—নিষেধাজ্ঞা, আপত্তি, এমনকি জনপ্রতিনিধির নির্দেশনাও উপেক্ষা করে চলছে এই প্রস্তুতি।
ঘটনাটি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদুল আজহা সামনে রেখে বিদ্যালয় মাঠে গরুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে কুমিল্লা-৬ (সদর-সদর দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন, বিদ্যালয় মাঠে যেন কোনোভাবেই গরুর হাট বসানো না হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই মাঠে হাট বসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, “প্রতি বছর গরুর হাট বসার পর পুরো মাঠ নষ্ট হয়ে যায়। দুর্গন্ধে ক্লাস করা যায় না। আমরা আন্দোলন করেছি, নিষেধ করেছি—কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট না বসানোর নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রয়োগ দেখা যায় না। বরং প্রশাসনের সামনেই বছরের পর বছর স্কুল মাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে পশুর বাজার হিসেবে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বিদ্যালয়ের পাশ ঘেঁষেই রয়েছে ব্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। স্থানীয়রা বলছেন, গরুর হাট বসার কারণে প্রতি বছর এই মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট তৈরি হয়, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তোলে। স্থানীয়দের দাবি, “বিদ্যালয় মাঠকে হাটমুক্ত ঘোষণা করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদ শাহীন শাকিল বলেন, “আমরা প্রতিবারই নিষেধ করি, কিন্তু আমাদের কথা কেউ শোনে না। অন্যত্র ইজারা দেওয়া হলেও জোর করেই স্কুল মাঠে হাট বসানো হয়।”
বিদ্যালয়ের মাঠে পশুর হাট বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তাহলে কার অনুমতিতে এই হাট বসানো হয়েছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাজারের ইজারাদার শাহীন কাদের আমার দেশকে বলেন, “গত ৩০ বছর ধরে এই স্কুল মাঠেই গরুর বাজার বসে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন। এজন্য আমরা পাঁচ লাখ একাত্তর হাজার টাকা দিয়ে ইজারা এনেছি।”
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, “বিদ্যালয় মাঠে গরুর হাট বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”