লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নেতা মোশাররফ হোসেন আর নেই। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
রোববার সকালে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক মাহবুবে এলাহি সানি তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মরহুম মোশাররফ হোসেন তার চাচা শ্বশুর ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন মোশাররফ হোসেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার বাদ আছর রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মোশাররফ হোসেন ছিলেন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন সাহসী সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি জয় বাংলা বাহিনীর (বিএলএফ) নোয়াখালী ও হাতিয়া জোনাল কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছাত্ররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৮ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী হিসেবে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
সবশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।