হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

লামায় কাঠবোঝাই ট্রলি জব্দের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, উখিয়া (কক্সবাজার)

ছবি: আমার দেশ

বান্দরবানের লামা উপজেলায় সরকারি বনাঞ্চলের কাঠবোঝাই দুটি ট্রাক্টর ট্রলি জব্দ করে পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একটি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে লামা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে. এম. কবির উদ্দীনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কাঠ পাচারে সহযোগিতার অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ভোর ৫টার দিকে লামা উপজেলার লাইনঝিরি এলাকা থেকে সরকারি বনের কাঠবোঝাই দুটি ট্রাক্টর ট্রলি জব্দ করেন লামা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম কবির উদ্দীন। পরে জব্দকৃত ট্রলি দুটি মালামালসহ বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়। তবে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে একটি ট্রলি রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ছেড়ে দেওয়া ট্রলিটি নাছির উদ্দীন মাঝির বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড়ি এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বিপুল পরিমাণ কাঠবোঝাই ট্রলিটি জব্দ করার পর কিছু সময় নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হলেও পরে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে সেটি ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ট্রলি মালিক ও চালকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার পরই ট্রলিটি মুক্ত করে দেওয়া হয়।

রুহুল আমিন নামে এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, জোত পারমিট ছাড়া বাগান কাটতে হলে বন বিভাগের কিছু কর্মচারীর মাধ্যমে সদর রেঞ্জ কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এছাড়া কাঠবোঝাই ছোট গাড়ির জন্য ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং বড় গাড়ির জন্য এক হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে ‘লাইন’ নিতে হয়।

আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেটের যোগসাজশে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লামা সদর ও রুপসীপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে অবাধে কাঠ পাচার চলছে। পোঁপা মৌজা, নাইক্ষ্যংমুখ, লামাখাল, পোপা খালের উজান, কোহ্লাখ্যা পাড়া, ইয়াংছা কাঠালছড়া, বনফুর পাড়া ও বমু রিজার্ভ এলাকার দুর্গম ঝিরিপথ ব্যবহার করে এসব কাঠ পরিবহন করা হয়।

বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১৫০টি ছোট-বড় ট্রাক, জিপগাড়ি, ভ্যান ও ট্রলির মাধ্যমে সেগুন, গামারী, গর্জনসহ বিভিন্ন মূল্যবান কাঠ এবং জ্বালানি লাকড়ি পাচার করা হচ্ছে। এসব কাঠ পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতি ট্রাক কাঠ থেকে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা, জিপগাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ টাকা, বাঁশবোঝাই ট্রাক থেকে আড়াই হাজার টাকা এবং জ্বালানি কাঠবোঝাই ট্রলি থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ না করলে অবৈধ কাঠ পরিবহন সম্ভব নয়।

পরিবেশবিদ জসিম আজাদ বলেন, অবাধ বন উজাড়ের কারণে পাহাড়ি এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পোপা হেডম্যান পাড়া, গিলা পাড়া, খ্রিস্টান পাড়া ও কাইরম পাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বনজ সম্পদ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এতে একদিকে পাহাড় ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও ধ্বংস হচ্ছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও কক্সবাজারের রামু জোয়ারিয়ানালা রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে কে এম কবির উদ্দীনের বিরুদ্ধে সুফল প্রকল্পের বনায়নের লাখ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে লামা সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম কবির উদ্দীন বলেন, ‘ভোরে প্রথমে একটি কাঠবোঝাই গাড়ি জব্দ করা হয়। পরে একটি খালি গাড়িও আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে একটি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে এবং অন্য গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাঠবোঝাই গাড়ির পেছনে থাকা খালি গাড়িটি সম্ভবত খবর পেয়ে পথে কাঠ ফেলে চলে আসছিল। পরে তদন্ত শেষে একটি গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।’

এমএইচ

রামিসা হত্যার বিচার দাবিতে লক্ষ্মীপুরে ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন

এবার ৭ বছরের মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, জনতার হাতে অবরুদ্ধ পুলিশ

গুইমারায় চাঁদার জন্য খাল খননের স্কেভেটর পুড়িয়ে দিয়েছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা

সীতাকুণ্ডে উন্নয়ন বন্ধ, বিপর্যস্ত জনজীবন

কোনো সুযোগ সন্ধানী গ্রুপ জড়িত কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে

তিন বছর সৌদিতে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরলেন মানিক

নবীনগরে সড়কের কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন

কুতুবদিয়ায় বিসিকের লবণ মাঠ এখন গোচারণ ভূমি

কুমিল্লায় সক্রিয় নিষিদ্ধ আ.লীগ, প্রকাশ্যে ঘুরছে ক্যাডাররা

ঘুমের ঘোরেই শিশুটিকে নিয়ে যায় গোডাউনের অন্ধকারে