কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ টেকনাফ উপজেলার খারাংখালি এলাকা থেকে ছয় কোটি টাকা মূল্যের দুই লাখ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি। মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে উখিয়ার ৬৪ বিজিবি। তবে এই ঘটনায় জড়িত চারজন পাচারকারির কাউকেই আটক করা যায়নি।
বিজিবি জানিয়েছে, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খারাংখালী বিওপি’র একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার বিআরএম-১৪ থেকে ৩০০ গজ দক্ষিণ দিকে এবং বিওপি থেকে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব দিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মৌলভীবাজার ইলিয়াসের বাড়ি সংলগ্ন স্থানে অবস্থান নেয়। ভোর রাত (১৭ জানুয়ারি) ৩টার দিকে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আসতে দেখতে পেয়ে বিজিবি টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করে।
বিজিবির দাবি, চোরাকারবারীরা বিজিবি টহল দলের চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করে তাদের দিকে তিন রাউন্ড ফায়ার করে। প্রতিউত্তরে বিজিবিও তাদের দিকে এক রাউন্ড ফায়ার করে। বিজিবির সশস্ত্র বাধার মুখে চোরাকারবারিরা সাঁতরে মায়ানমারের দিকে পালিয়ে যায়।
পরে ওই স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নীল রংয়ের ২টি প্লাস্টিকের বস্তার ভিতরে স্কচ টেপ দিয়ে মোড়ানো খাকি রংয়ের বায়ুরোধী ২০টি প্যাকেটে ২ লাখ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। তবে দীর্ঘ তল্লাশির পরও অন্য কোনো অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি।
বিজিবি দাবি করছে, ওই এলাকায় পলায়নরত চোরাকারবারিদের ধরতে চিরুনি অভিযান করা হলেও রাতের অন্ধকারে কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, পালিয়ে যাওয়া মাদক চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবা টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
বিজিবির এই ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সব সময় কঠোর অবস্থান নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।