আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনে ভোটের রাজনীতি ক্রমেই উৎসবমুখর হয়ে উঠছে। জমে উঠেছে বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও জামায়াতের রুহুল আমিন ভূঁইয়ার মধ্যে নির্বাচনি লড়াই। মাঠের রাজনীতিতে বাড়ছে প্রচার, বদলাচ্ছে ভোটের সমীকরণ।
রায়পুর উপজেলা ও সদর অংশের ইউনিয়নগুলোতে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হচ্ছে পথসভা, গণসংযোগ, কর্মিসভা ও মতবিনিময় সভা। মিছিল সমাবেশের স্লোগানে স্লোগানে সরগরম হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকা। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই দুই ‘ভূঁইয়া’এখন আলোচনার কেন্দ্রে। রায়পুর পৌরসভার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুস সালাম বলেন, আগে মানুষ দল দেখে ভোট দিত। এবার অনেকেই প্রার্থী দেখে সিদ্ধান্ত নেবে। যিনি এলাকায় থাকেন, মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন, তাকেই মানুষ চাইছে। সেই বিবেচনায় বিএনপির প্রার্থী কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন।
চরবংশী ইউনিয়নের গৃহবধূ নাজমা বেগম বলেন, আমরা চাই শান্তি আর নিরাপত্তা। যে প্রার্থী নারীদের কথা ভাববেন, তাকেই ভোট দেব।
একই এলাকার যুবক রাসেল হোসেন বলেন, এবার ভোটের হিসাব সহজ না। আগের মতো একদল একচেটিয়া থাকবে না। সবাই হিসাব করে ভোট দেবে।
ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, উন্নয়ন, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত ভূমিকা— এই তিনটি বিষয়ই এবার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে।
বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া মাঠে সক্রিয় হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছেন। নিয়মিত গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক বৈঠকের মাধ্যমে তিনি মাঠ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, লক্ষ্মীপুর-২ আসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ঐতিহ্যের আসন। জনগণ পরিবর্তন চায়। আমরা জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে প্রস্তুত।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, এই আসনে বিএনপির ভোটব্যাংক এখনো শক্ত। দল ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিজয় আমাদেরই হবে।
তবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কিছু এলাকায় সাংগঠনিক দুর্বলতা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জেলা আমির রুহুল আমিন ভূঁইয়াও সমানতালে মাঠে সক্রিয়। তিনি নিজেই এখন নিয়মিত গণসংযোগ ও কেন্দ্রভিত্তিক সভায় অংশ নিচ্ছেন। তার অনুপস্থিতিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, আমরা ক্ষমতার রাজনীতি নয়, ন্যায়ের রাজনীতি করতে চাই। গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের লক্ষ্য।
রায়পুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল আউয়াল রাসেল জানান, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত দাওয়াতি কাজ ও প্রার্থী পরিচিতি সভা হচ্ছে। তৃণমূলে আমরা ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।
বিশেষ করে নারী ভোটার ও ধর্মপ্রাণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন বাড়ছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে এবার একক আধিপত্যের রাজনীতি নেই। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সরাসরি ভোট ভাগাভাগি হবে। এতে ফলাফল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চিত থাকতে পারে।
সাংবাদিক কামাল উদ্দিন মনে করেন, ভোটাররা এবার অনেক বেশি সচেতন। ব্যক্তি ইমেজ, সংগঠন এবং মাঠে উপস্থিতি—এই তিনটি বিষয়ই জয়-পরাজয়ের ফয়সালা করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনের ফল শুধু স্থানীয় রাজনীতিতে নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।
সব মিলিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসন এখন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্র। বিএনপি বনাম জামায়াত— এই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে কোন সমীকরণ দাঁড়ায়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— এই আসনে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।