হালিশহরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ দুই শিশুর অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দুই শিশুকে দেখতে যান সাঈদ আল নোমান। সেখানে তিনি তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হালিশহরে সিল্ডিার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয় আনাস ও আয়েশা। এ ঘটনায় মারা যায় তাদের বাবা-মাসহ সাতজন। বর্তমানে বৃদ্ধা দাদী ছাড়া তাদের আগলে রাখার মতো আর কেউ বেঁচে নেই।
সাঈদ আল নোমান জানান, মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ এই দুই শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। তারা যেন বাড়িতে বসে ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, সেজন্য একজন গৃহশিক্ষক (হোম টিউটর) নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ওই শিক্ষকের বেতন, শিশুদের বই-খাতা, কলম ও স্কুল ড্রেসসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ ও খরচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে নিজেই প্রদান করবেন।
এ ছাড়া, আগুনে চামড়া দগ্ধ হওয়ার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুদের ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। এই বিবেচনা থেকে শিশুদের থাকার ঘরে নিজস্ব অর্থায়নে এসি স্থাপন এবং প্রতি মাসের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার দায়িত্বও নিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।
তিনি আরো জানান, ঢাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শিশুরা এখন কুমিল্লায় থাকলেও পরবর্তীতে উন্নত ও ফলোআপ চিকিৎসার জন্য যদি তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আসতে হয়, তবে সেখানেও তাদের বিশেষ চিকিৎসার সব ধরনের তদারকি ও দেখভাল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে করা হবে।
সাঈদ আল নোমান বলেন, এই নিষ্পাপ শিশু দুটির ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তারা তাদের বাবা-মাকে হারিয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয় বরং একজন মানুষ হিসেবে এই এতিম সন্তানদের পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব মনে করেছি। যতদিন তারা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে না পারছে, ততদিন তাদের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও সুন্দর জীবনের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবটুকুই আমি করে যাব।
২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হালিশহরের হালিমা মঞ্জিলে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। এতে একই পরিবারের নয়জন দগ্ধ হন। জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে আনাস ও আয়েশার বাবা সামির আহমেদ, মা পাখি আক্তার, চাচা মো. শিপন, চাচা সাখাওয়াত হোসেন, চাচি নুর জাহান আক্তার রাণী, এক চাচাতো ভাই সাফায়াত ও চাচাতো বোন উম্মে আইমান সিগ্ধা মারা যান।
জেডএম