টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে পাহাড়ধসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে বুধবার ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর সম্ভাব্য আরো প্রাণহানি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য জরুরি মাইকিং শুরু হয়েছে। তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বুধবার জঙ্গল সলিমপুরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর সমাজ বাগানবাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসে মো. আশরাফুল ইসলামের (তানভীর) মৃত্যু হয়। তার বয়স ছিল ১০ মাস। সে ওই এলাকার বাসিন্দা মইনউদ্দিন ও লামিয়া বেগমের সন্তান।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়লে হঠাৎ পাহাড়ের একটি অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘরের ভেতরে থাকা তানভীর মাটিচাপা পড়ে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার উদ্ধার করলেও শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ইউএনও ফখরুল ইসলাম, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, পাহাড়ধসে নিহত শিশুর পরিবারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচটি শুকনো খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য জরুরি মাইকিং করা হচ্ছে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, পাহাড়ধসের ঘটনার পর পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। পাশাপাশি পৌর সদরের নামার বাজার, বারৈয়াঢালা ও কুমিরা ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা ও সীতাকুণ্ড ও কুমিরা পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী আশ্রয়কেন্দ্রে চলে আসার জন্য বলা হচ্ছে।
ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. সোহেল রানা বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সরিয়ে এনে এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও এস এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ, প্রশাসন ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা একযোগে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে অতিরিক্ত আশ্রয়কেন্দ্র চালুর প্রস্তুতিও রয়েছে।
জেডএম