হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

দুর্গম পাহাড়ে ঘরে ঘরে হামের প্রকোপ শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে উৎকণ্ঠা

আবুল বাশার নয়ন, বান্দরবান

বান্দরবানের আলীকদমের দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের পাহাড়ি পাড়াগুলোয় ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে হাম। প্রায় প্রতিটি পরিবারের শিশুরা এখন জ্বর ও হামের উপসর্গে ভুগছে। কোনো কোনো বাড়িতে দু-চারজন শিশুও আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। ভৌগোলিক দুর্গমতা আর চরম আর্থিক অনটনের কারণে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ম্রো জনগোষ্ঠীর এই জনপদে এখন শুধুই কান্নার রোল।

চেয়ারম্যান পাড়ার বাসিন্দা ৭১ বছর বয়সি রুইলুই ম্রো। তার চার নাতির সবার শরীরে জ্বর ও হামের উপসর্গ। বড় নাতির কষ্ট লাঘবে তার বুকে-মাথায় ভেজা কাপড় দিয়ে জলপট্টি দিচ্ছিলেন তিনি। রুইলুই ম্রো আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আট দিন ধরে ওরা অসুস্থ। শরীরজুড়ে ফুসকুড়ি, কিছুই খেতে পারছে না। হাসপাতালে নেওয়ার সামর্থ্য নেই, তাই ঘরেই পরিচর্যা করছি।’ একই চিত্র দেখা গেছে নেপিউ পাড়ায়। সেখানকার বাসিন্দা রেংপোয়াইং ম্রো তার ছেলে মেনচুন ম্রোর পাশে বসে কলাপাতা দিয়ে বাতাস করছেন। ছেলের সারা শরীর লালচে র‍্যাশে ভরে গেছে। রেংপোয়াইং আক্ষেপ করে বলেন, ‘ছেলেসহ গ্রামের অনেকেই অসুস্থ। হাসপাতালে নেওয়ার টাকা নেই। এই গ্রামে কোনো দিন ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মী আসেনি, টিকা দেওয়া তো দূরের কথা।’

উপজেলা সদর থেকে কুরুকপাতা ইউনিয়নের দেওয়ান পাড়ার দূরত্ব প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এবং নেপিউ পাড়ার দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। আলীকদম-পোয়ামুহুরি সড়ক ধরে ২৩ কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনে যাওয়া গেলেও বাকি পথটুকু পাড়ি দেওয়া অসাধ্য। মাতামুহুরী নদী পার হয়ে ১২ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে হয় মেনয়ুন পাড়ায়। এরপর আদু পাড়ায় পৌঁছাতে কয়েকশ ফুট উঁচু পাহাড় ডিঙিয়ে হাঁটতে হয় আরো দুই ঘণ্টা। এই দীর্ঘ ও বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে নেওয়া সাধারণ পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

তথ্যমতে, নেপিউ পাড়ার ১৭টি পরিবারের মধ্যে ১৬ জন শিশু-কিশোর আক্রান্ত। চেয়ারম্যান পাড়ায় ১৮টি পরিবারের মধ্যে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৬ জনের বেশি। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা রিংলক পাড়ায়, যেখানে ৪০ জনেরও বেশি শিশু হামে আক্রান্ত। আদু পাড়ায়ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সব মিলিয়ে এই চারটি পাড়ায় হাম পরিস্থিতি এখন উদ্বেগজনক। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৭১ জন চিকিৎসা নিয়েছে, যার মধ্যে ২৯ জন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। তবে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পোয়ামুহুরি ও কুরুকপাতায় দুটি অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতা আর নাজুক যোগাযোগব্যবস্থার কারণে দুর্গম এলাকার রোগীরা হাসপাতালে আসতে পারছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি দুর্গম এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, সারা দেশের মতো কুরুকপাতায়ও হাম ও রুবেলার প্রাদুর্ভাব কিছুটা বেড়েছে। কুরুকপাতা বাজারে অস্থায়ী ক্লিনিক খোলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসাসেবা ও টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

ইঞ্জিনে ত্রুটি, ফেনীতে ছয় ঘণ্টা ধরে আটকা ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’

রামগঞ্জে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, কাজে আসছে না গভীর নলকূপ

নবীনগরে মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থী

বাঁশখালীতে এক ইটভাটাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

আমেরিকায় ট্যাক্সি চালিয়ে দেশে গড়েছেন ৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

চকরিয়ায় ৩৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ ২ কারবারি আটক

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ৩

মহাবিপন্ন বাঘাইড় উদ্ধার, রাতে মাটিচাপা বন বিভাগের

রাউজানে ২১ মাসে ২৩ খুন ১৯টিই রাজনৈতিক

সীতাকুণ্ডে পুকুরে মৃত্যুর মিছিল, চার দিনে ঝরল ৫ শিশুর প্রাণ