দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সীতাকুণ্ড দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও আইনি অনিশ্চয়তায় উন্নয়ন স্থবির হয়ে আছে। জনপ্রতিনিধিত্ব-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প আটকে রয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের মামলার রায়ের দিকে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও নির্বাচন-পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, এর প্রভাব পড়েছে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং বিনিয়োগ পরিবেশে।
দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনি কোনো অভিযোগ করেননি। নির্বাচন কমিশন আইনগত যাচাই শেষে তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিল। আদালতের রায় সবাই মেনে নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে সীতাকুণ্ড পৌরসভার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডাম্পিং স্টেশন, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ সংস্কার, চন্দ্রনাথ পাহাড়ে রোপওয়ে, গুলিয়াখালী সৈকতের আধুনিকায়ন ও ইকোপার্ক সম্প্রসারণসহ একাধিক প্রকল্প।
শিল্প উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, মহাসড়কের যানজট, অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল অবস্থা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে ও নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।
উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতারা, শিপ ব্রেকার্স খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী নেতারা আশা করছেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটবে এবং স্থবির উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হবে। স্থানীয়দের মতে, উন্নয়ন কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, এটি জনগণের অধিকার। তাই রায় যাই হোক, সীতাকুণ্ডের উন্নয়নের চাকা দ্রুত সচল করাই এখন সময়ের দাবি।