টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো বিপর্যস্ত। নিম্নাঞ্চলের শত শত একর কৃষিজমি, সবজিক্ষেত, মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে পৌরসভার আমিরাবাদ ও নামার বাজার এলাকায় সড়ক-ঘাট ডুবে যাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক ত্রাণ কার্যক্রম দুর্গত মানুষের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি এনে দিলেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
বাড়বকুণ্ড, মুরাদপুর, সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, বাঁশবাড়িয়া, সলিমপুর, কুমিরা ও উপকূলীয় জেলেপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় ৭০০ পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। তার সঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।
পৌরসভার বাসিন্দা মোজাহির উদ্দিন আশরাফ আমার দেশকে বলেন, আমিরাবাদ ও নামার বাজার এলাকায় রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়েছে। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে রয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও স্থায়ী সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
মুরাদপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী রাসেল আমার দেশকে বলেন, বৃষ্টি কমলেও এখনো অনেক এলাকায় পানি নামেনি। কৃষিজমি ও সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে, পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। প্রতিবছর একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্থায়ী সমাধান না হলে মানুষের দুর্ভোগ কখনোই কমবে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, পৌর এলাকার আমিরাবাদ ও নামার বাজারের বিভিন্ন সড়ক এবং অলিগলিতে এখনো হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র উঁচু স্থানে তুলে রেখেছে। অন্যদিকে মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, কুমিরা ও বাঁশবাড়িয়ার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি এখনো পানির নিচে। অনেক এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরসালিন আমার দেশকে বলেন, দুর্যোগের শুরু থেকেই বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য লায়ন আসলাম চৌধুরীর নির্দেশনায় দলের নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ত্রাণ বিতরণে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল ও দলের অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। জঙ্গল সলিমপুর এলাকার এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও এসএম পাইলট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া শত শত মানুষের জন্য শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে ত্রাণ বিতরণ চলছে।
জেডএম