মিয়ানমার থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ছোড়া গুলিতে স্কুলছাত্রী হুজাইফা সুলতানা আফরান গুরুতর আহত হওয়ার প্রতিবাদে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। সীমান্তে নির্বিচার গুলিবর্ষণ বন্ধ ও আহত শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসার দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ হাইওয়ে সড়কে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বাংলাদেশে গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা জানান এবং জিরো পয়েন্টে অবিলম্বে সব ধরনের সংঘর্ষ বন্ধের দাবি তোলেন।
মানববন্ধনে জেলা বিএনপির সদস্য জুনায়েদ আলী চৌধুরী বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে এক নিরীহ শিশু শিক্ষার্থী আহত হওয়া চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মির এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আহত শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো নিরীহ মানুষ এ ধরনের হামলার শিকার না হয়, সে জন্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষ প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে সীমান্তে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
অন্যান্য বক্তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত যেন বাংলাদেশে এসে নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন না করে, সে জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা দরকার।
এদিকে আহত শিক্ষার্থী হুজাইফার পিতা জসিম উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, রোববার খেলতে বের হওয়ার সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলি তার মেয়ের মাথায় লাগে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছে। মেয়ের সু-চিকিৎসায় তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।