হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

জঙ্গল সলিমপুর: থেমেছে গুলির শব্দ, থামেনি আতঙ্ক

চট্টগ্রাম ব্যুরো

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিনকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবও জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করেছে।

জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম আজ মঙ্গলবার রাতে বলেন, ইয়াসিনকে গ্রেপ্তারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিভিন্ন ইউনিট একযোগে মাঠে কাজ করছে। তার সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

রোববার (২৪ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় র‌্যাব ক্যাম্পে সন্ত্রাসীরা মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করে। এ খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী অভিযানে নামে। শুধু গুলিবর্ষণেই ক্ষান্ত হয়নি ইয়াসিন বাহিনীর সহযোগীরা। বুলডোজার দিয়ে র‌্যাব ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি যৌথ বাহিনী যাতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালাতে না পারে, সে উদ্দেশ্যে অন্তত পাঁচটি স্থানে রাস্তা কেটে ফেলা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নব্বইয়ের দশকে সন্ত্রাসী আলী আক্কাস সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি গড়ে তোলেন। এরপর থেকেই নগরী ও আশপাশের জেলার বিভিন্ন সন্ত্রাসীর কাছে দুর্গম এই অঞ্চলটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আলী আক্কাস নিহত হওয়ার পর তার সহযোগীরা এলাকাটি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। সময়ের সঙ্গে সেখানে গড়ে ওঠে একাধিক সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট। এর মধ্যে মো. ইয়াসিনের নেতৃত্বাধীন ‘ইয়াসিন বাহিনী’ বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট সংযোগ সড়কের পাশের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এলাকাটিতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে।

চট্টগ্রামে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যখ্যাত জঙ্গল সলিমপুরে টানা ৯ ঘণ্টার নজিরবিহীন যৌথ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। এতে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি সাঁজোয়া যান (এপিসি) এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। সে সময় এলাকায় প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল।

গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ হারায় সন্ত্রাসীরা। ওই অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিনসহ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী এখনো পলাতক রয়েছেন।

তবে মার্চের সেই বড় অভিযানের তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ইয়াসিনসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অভিযানের সময় রাস্তায় ট্রাক রেখে ব্যারিকেড তৈরি করা হয় এবং কালভার্ট ও নালার স্ল্যাব ভেঙে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, অভিযানের খবর আগেই পেয়ে এসব বাধা তৈরি করেছিল সন্ত্রাসীরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইয়াসিন এখনো জঙ্গল সলিমপুরেই আত্মগোপনে রয়েছে। তিনটি এলাকাকে ঘিরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর একটি আলীনগরের গভীর অংশ। র‌্যাব ক্যাম্পের কাছাকাছি হলেও ঘন জঙ্গল ও সরু ছড়া-পথ থাকায় এলাকাটি সহজেই নজর এড়িয়ে চলাচলের সুযোগ দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার রাতেও এই পথ ব্যবহার করে হামলাকারীরা ছড়িয়ে পড়েছিল। আরেকটি এলাকা হলো পুরোনো পাথরখাদের উত্তরের পাহাড়ি জঙ্গল অংশ। সেখানে পাথরের গর্ত ও ঝোপের আড়ালে তৈরি কয়েকটি অস্থায়ী আস্তানার সন্ধান আগেও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাতের বেলায় সেখানে কয়েকজনের চলাচল দেখা গেছে। এছাড়া সলিমপুরের দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালের পরিত্যক্ত বসতি এলাকাও নজরদারিতে রয়েছে। দুই বছর আগের উচ্ছেদ অভিযানের পর ফাঁকা পড়ে থাকা ঘরগুলো এখন চোরাচালানকারী ও সশস্ত্র অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।

পুলিশের কৌশল: ব্যারিকেড, চেকপোস্ট ও ড্রোন নজরদারি

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তথ্য অনুযায়ী ইয়াসিন এখনো জঙ্গল সলিমপুরেই রয়েছে। অজ্ঞাত স্থানে আশ্রয় নিয়ে সে তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যৌথ বাহিনীর অভিযানে জঙ্গল সলিমপুর থেকে বিতাড়িত ইয়াসিন গ্রুপই এই হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাত ৩টার দিকে যৌথ বাহিনী জঙ্গল সলিমপুর এলাকা ঘিরে ফেলে। তবে হামলায় জড়িত কাউকে আটক করা না গেলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। আজ মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীরা যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে আইনের শাসন ছিল না। দুর্বৃত্তায়নের এক ধরনের মহামারি চলছিল। জঙ্গল সলিমপুরকে আমরা রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র হিসেবে দেখেছি। সেটিকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

ইয়াসিনের নেটওয়ার্ক এখনো সক্রিয়

গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ইয়াসিন একা আত্মগোপনে নেই। গত ৯ মার্চের যৌথ অভিযানে ২২ জন গ্রেপ্তার হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিন, মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক ও গোলাম গফুরসহ কয়েকজন এখনো পলাতক। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, বাইরে থেকে ফোনে নির্দেশ দিয়ে ইয়াসিন তার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রাখছে। হামলায় ব্যবহৃত একে-৪৭ ও বিদেশি পিস্তলসহ ভারী অস্ত্র স্থানীয়ভাবে মজুত করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

হামলার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় দোকানি মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, রাতে আলো জ্বালিয়েও ঘুমাতে পারি না। মাঝে মাঝে গুলির শব্দ শোনা যায়। কে কোথায় লুকিয়ে আছে, কিছুই বুঝতে পারি না।

এলাকার আরেক বাসিন্দা রাফিকা বেগম বলেন, জঙ্গল থেকে মাঝে মাঝে আগুনের আলো দেখা যায়। শিশুরা বাইরে যেতে ভয় পায়।

এআরবি

র‍্যাব ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ২৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বাকলিয়ায় সহিংসতার ঘটনায় ৫৮ জনকে আসামি করে মামলা

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন এমপি ও উপজেলা বিএনপি

বৈরী আবহাওয়ায় শাহ আমানত বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিপর্যয়

পটিয়ায় পুলিশের অভিযানে যুবলীগ কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৪

জীবনে প্রথম কোরবানি দিতে পেরে খুশিতে আত্মহারা মোকসেদ মিয়া

বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করা হলো না ফয়েজের

মহাসড়কে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ২৯ মামলার আসামিসহ আটক ৩

থেমে গেল ‎বাড়ি ফেরা, কালবৈশাখীতে প্রাণ‎ হারালেন হোসেন

অসহায়দের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণসহায়তা বিতরণ জামায়াতের নারী এমপির