দেশের ১০টি জেলার সঙ্গে
সরকারের পাইলট প্রকল্প হিসেবে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার সঙ্গে পাচ্ছেন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার কৃষকরা কৃষক কার্ড। এতে খুশি প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা।
সরকার দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথম দফায় ২১ হাজার ৫০০ কৃষকদের মধ্যে কৃষক কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের ৮৩৪ জন কৃষক পাচ্ছেন কৃষক কার্ড। এই কার্ড দেয়া হচ্ছে ভুমিহীন, প্রান্তিক, ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে যাতে করে তারা বছরে নগদ টাকা প্রনোদনা হিসেবে পেয়ে তাদের কাজে লাগাতে পারে।
এই কার্ডটি কাজে লাগিয়ে মৎস্য, প্রাণী সম্পদ ও কৃষি উপকরণের জন্য প্রণোদনা পাবে, এতে করে লাভবান হবেন তারা।
মৌলভীবাজার জেলায় মোট আবাদকৃত জমি ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৯৪ হেক্টর। বছর ঘুরে পতিত থাকে ৯৩ হাজার ৫৯৬ হেক্টর জমি।
বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন হলেও পর্যায়ক্রমে পতিত থাকে ৩৪ হাজার ৩৯৮ হেক্টর জমি। এর মধ্যে রবিতে আবাদ হয় ৯০ হাজার ২০৫ হেক্টর, পতিত থাকে ৩৭ হাজার ৭৮৯ হেক্টর, খরিপ-১ এ আবাদ হয় ৭৪ হাজার ৮৮ হেক্টর, পতিত থাকে ৫৩ হাজার ৯০৬ হেক্টর।
খরিপ-২ এ আবাদ হয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯৩ হেক্টর, পতিত থাকে ১ হাজার ৯০১ হেক্টর জমি। ধারণা করা হচ্ছে কৃষক কার্ড এর মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষকরা প্রনোদনা পেলে সকল জমিই পর্যায়ক্রমে চাষাবাদের আওতায় আসবে। এতে করে কৃষকসহ লাভবান হবে অন্যরাও।
এ বিষয়ে ফুলতলা ইউনিয়নের কৃষক মারুফ আহমেদ ও সুন্দর মিয়ার সাথে কথা হলে তারা জানান, এটি সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এই সরকার কৃষি বান্ধব, কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ। তাই ইতিমধ্যে সুদসহ কৃষকের ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋন মওকুফ করে দিয়েছেন। এখন দিবেন কৃষি প্রনোদনার কার্ড। এতে করে তারা লাভবান হবেন জানিয়ে বলেন এতে করে কৃষির প্রতি তাদের আগ্রহ বেড়ে গিয়েছে। তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান।
ইসলামপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, সার, বীজসহ কৃষি উপকরনের দাম বৃদ্ধির কারনে অনেক কৃষক চাষাবাদ বাদ দিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি বলেন পানির অভাবের কারনে অনেক সময় বোরো বা রবিশস্য ফলানো যেত না। বর্তমান সরকার খাল খনন কর্মসূচী হাতে নেয়ায় বর্তমানে এক ফসলের জায়গায় তিন ফসল আবাদ করা যাবে। এছাড়াও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত সুবিধা কৃষকদের উৎসাহিত করবে। এতে করে নিজেদের খাদ্যের যোগানের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফসল বিক্রী করে অর্থনৈকিভাবে লাভবান হওয়া যাবে। তবে তিনি বলেন, শীঘ্রই সারাদেশের কৃষকদের জন্য এই সুবিধা চালু করা প্রয়োজন।
এবিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারন অদিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: জালাল উদ্দিন প্রধান জানান, ইতিমধ্যে কৃষি কার্ড দেয়ার জন্য জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের ৮৩৪ জন কৃষককে বাঁছাই করে চুড়ান্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে শীঘ্রই জেলার সকল উপজেলায় সরকারের সিন্দান্ত মোতাবেক চালু করা হবে।
তিনি বলেন,‘মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আগামী ১৪ই এপ্রিল ১লা বৈশাখ সারাদেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় কৃষি কার্ডের উদ্বোধন করবেন। সেই লক্ষ্যে চুড়ান্ত তালিকা তৈরী করা হয়েছে, প্রধান মন্ত্রীর উদ্বোধনের সাথে সাথেই কৃষকদের মধ্যে তা পৌঁছে দেয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, কৃষকরা প্রনোদনা পেলে মৌলভীবাজার জেলায় পতিত জমিগুলো চাষের আওতায় আসবে এবং খাদ্যের যোগান বাড়বে।